বংশধারা তত্ত্ব

আজকের আলোচনার বিষয় বংশধারা তত্ত্ব – যা সামাজিক কাঠামো ও জ্ঞাতিত্ব এর অর্ন্তভুক্ত, নৃবিজ্ঞানের জন্মলগ্ন হতে জ্ঞাতিত্ব অধ্যয়ন ছিল নৃবিজ্ঞানের কেন্দ্রীয় বিষয়। আপনারা ৩ নং পাঠে দেখেছেন কিভাবে মর্গান-অনুসরণে প্রাথমিক পর্যায়ের নৃবিজ্ঞান গুরুত্ব দিয়েছিল জ্ঞাতিত্ব পদাবলীর উপর।

মর্গানের প্রভাবের কারণে গত শতকের প্রথম দশকগুলোতে জ্ঞাতি অধ্যয়ন বলতে বোঝাত বিভিন্ন সমাজের জ্ঞাতি পদাবলীর তুলনামূলক আলোচনা। ম্যালিনোস্কি এবং কাঠামোগত ক্রিয়াবাদী নৃবিজ্ঞানীরা, এধরনের “জ্ঞাতি এলজেব্রা” থেকে সরে দাঁড়ালেন। একে জ্ঞাতি এলজেব্রা বলা হয়েছিল কারণ যুক্তিবিদ্যা বা logic-এর মতনই এগোচ্ছিল জ্ঞাতিত্ব অধ্যয়ন – আনুষ্ঠানিক নিয়মনীতি, নানারকমের অর্থহীন শ্রেণীকরণ তৈরি ইত্যাদি।

 বংশধারা তত্ত্ব

 

 বংশধারা তত্ত্ব

 

ম্যালিনোস্কি এবং কাঠামোগত ক্রিয়াবাদীরা জ্ঞাতিত্ব অধ্যয়নকে ঢেলে সাজালেন। তাঁরা গুরুত্ব আরোপ করলেন জ্ঞাতিত্বের সামাজিক প্রেক্ষিতের উপর। কোন্ সমাজে কোন্ জ্ঞাতি সম্পর্ক কোন্ ধরনের ক্রিয়া সম্পাদন করে থাকে – এই ছিল তাঁদের মনোযোগের জায়গা। জ্ঞাতিত্ব নিয়ে গবেষণা এবং তাত্ত্বিক লেখালেখির মাধ্যমে কাঠামোগত ক্রিয়াবাদী তাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি শক্তিশালী হয়ে উঠল। এদের প্রধান অবদান বংশধারা বা গোষ্ঠী তত্ত্ব।

বংশধারা তত্ত্ব ১৯৪০ হতে ১৯৬০-এর দশক পর্যন্ত বৃটিশ সামাজিক নৃবিজ্ঞানে প্রভাব বিস্তার করে। একই সময়কালে এই তত্ত্ব মার্কিনী সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞানে প্রভাবশালী ছিল। এই তত্ত্বের কেন্দ্রীয় ভাবনা এক দিকে ছিল ভূখন্ড এবং জ্ঞাতিত্বের সম্পর্ক নির্ণয়, অপর দিকে, পরিবার এবং অধিকতর বৃহত্তর সামাজিক একক যেমন ক্ল্যান, জেন এবং সিব – এদের আন্তঃসম্পর্ক উদ্ঘাটন।

 

আমাদের গুগল নিউজে ফলো করুন
আমাদের গুগল নিউজে ফলো করুন

 

বংশধারা তত্ত্ব বিবর্তনবাদ হতে জন্মলাভ করে। পরবর্তী পর্যায়ে, যখন মাঠকর্ম-ভিত্তিক গবেষণা এবং ক্রিয়াবাদী তত্ত্ব শক্তিশালী হয়ে উঠে, তখন এই ভাবনা শক্ত-পোক্তভাবে নৃবিজ্ঞানীদের মধ্যে দানা বাঁধে যে সামাজিক সংগঠনের প্রধান একক হচ্ছে গোষ্ঠী। এবং আস্তে-আস্তে বিবর্তনবাদী ধারণা – যেমন গোষ্ঠী মনুষ্য প্রজাতির বিবর্তনের কোন পর্যায়ে উদ্ভাবিত হ’ল – গুরুত্বহীন হয়ে পড়ে। এর পরিবর্তে, সামাজিক সংগঠন হিসেবে গোষ্ঠী কিভাবে সামাজিক ভারসাম্য নিশ্চিত করে – এই ধরনের প্রসঙ্গ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে।

 

 বংশধারা তত্ত্ব

 

বৃটিশ নৃবিজ্ঞানী র্যাডক্লিফ-ব্রাউন এবং আরো পরে মেয়ার ফোর্টস, ইভানস্-প্রিচার্ড প্রধানত আফ্রিকায় কাজ করেন এবং সেখানকার সমাজে করা গবেষণার সাহায্যে গোষ্ঠী তত্ত্ব তৈরী করেন। এই তত্ত্ব এতই শক্তিশালী ছিল যে এক সময় নৃবিজ্ঞানীদের মনে হয়েছিলো পৃথিবীর সকল সমাজেই গোষ্ঠী কিংবা বংশ আছে, থাকতে বাধ্য। ফরাসী নৃবিজ্ঞানী ক্লদ লেডী-স্ট্রস’এর মৈত্রীবন্ধনতত্ত্ব পরে বংশধারা তত্ত্বকে ম্লান করে দেয়।

 

বংশধারা তত্ত্ব অধ্যায়ের সারাংশ
বংশধারা তত্ত্ব অধ্যায়ের সারাংশ

 

 

বংশধারা তত্ত্ব অধ্যায়ের সারাংশ:

আজকের আলোচনার বিষয়  বংশধারা তত্ত্ব অধ্যায়ের সারাংশ – যা সামাজিক কাঠামো ও জ্ঞাতিত্ব এর অর্ন্তভুক্ত, বিংশ শতকের প্রথম দিকে চর্চিত “জ্ঞাতি এলজে” (যার নমুনা পেলেন এই ইউনিটের ৩ নম্বর পাঠে) থেকে নৃবিজ্ঞানীরা সরে এসেছেন।

 বংশধারা তত্ত্ব অধ্যায়ের সারাংশ

 

সরে এসে তাঁরা জ্ঞাতিত্ব অধ্যয়নকে কিভাবে ক্রিয়াবাদী পরিকাঠামোর সাহায্যে ঢেলে সাজালেন, এবং তার ফলে কি ধরনের তত্ত্ব দাঁড় করালেন – সেটাই ছিল এ পাঠের বিষয়বস্তু। নৃবিজ্ঞানে তাত্ত্বিক মোড় ঘোরানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হচ্ছে বংশধারা তত্ত্ব। বংশধারা তত্ত্বে গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে সামাজিক প্রেক্ষিতের উপর: জ্ঞাতিত্ব কোন্ সমাজে কি ধরনের কার্য সম্পাদন করে থাকে।

 

আমাদের গুগল নিউজে ফলো করুন
আমাদের গুগল নিউজে ফলো করুন

 

মনোযাগ দিয়ে ইরোকওয়া কেইস স্টাডি পড়লে বোঝা যায় ইরোকওয়া মিত্র সংঘের ভিত্তি হচ্ছে বিভিন্ন পর্যায়ের জ্ঞাতিভিত্তিক সংগঠন: গৃহস্থালী/পরিব্যপ্ত পরিবার, বংশ, গোষ্ঠী, (উপ) জাতি, মিত্রসংঘ। প্রতিটি পর্যায়ের জ্ঞাতিভিত্তিক সংগঠনগুলো কেবলমাত্র সামাজিক ভূমিকা পালন করে না, এগুলো একইসাথে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভূমিকাও পালন করে থাকে। বংশধারা তাত্ত্বিকদের লেখালেখি পড়ে মনে হতে পারে যে পৃথিবীর সকল সমাজে, বংশীয় দল বিদ্যমান। বাস্তবে যে তা নয়, সেটি আগামী পাঠের বিষয়বস্তু। তাতে আলোচনা করা হবে মৈত্রীবন্ধন তত্ত্ব, যার আবির্ভাব বংশ ধারা তত্ত্বকে নান করে দেয় ।

 

 বংশধারা তত্ত্ব অধ্যায়ের সারাংশ

 

আরও পড়ুন:

বংশধারা:

প্রজনন জীবের একটি বৈশিষ্ট্য যার মাধ্যমে মাতা-পিতার বৈশিষ্ট্য পরবর্তী বংশধরে সঞ্চালিত হওয়ার মাধ্যমে জীব তার নিজের অস্তিত্ব ধরে রাখে, একে বংশগতি (Heredity) বলে। বিজ্ঞানের যে শাখায় জিনের গঠন, কার্যপদ্ধতি ও তার বংশানুক্রমিক সঞ্চালন পদ্ধতি ও ফলাফল নিয়ে আলোচনা ও পর্যালোচনা করা হয় তাই জিনতত্ত্ব বা জেনেটিক্স (Genetics)। আর জিন হলো বংশগতির মৌলিক একক যা বংশ পরম্পরায় সঞ্চারিত হয়ে বংশধারা ধরে রাখে। অপরদিকে প্রকৃতিতে যে মন্থর ও ধারাবাহিক পরিবর্তনের মাধ্যমে অতীতে উদ্ভূত কোনো সরল জীব হতে জটিল ও উন্নত জীবের আবির্ভাব ঘটে তাকে বিবর্তন (Evolution) বলে। এখানে জিনতত্ত্ব ও বিবর্তন সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

মেন্ডেলিজম ও মেন্ডেলিয়ান বংশগতি (Mendelism and Mendelian Inheritance):

গ্রেগর জোহান মেন্ডেল সর্বপ্রথম ব্যক্তি যিনি বংশগতির নীতিসমূহ উদ্ভাবনে সমর্থ হন। মেন্ডেল ১৮২২ খ্রিষ্টাব্দের জুলাই ২ তারিখ তৎকালীন অস্ট্রোহাঙ্গেরিয়ান সাম্রাজ্যের অন্তর্গত সাইলেসিয়া (Silesia) অঞ্চলের হাইজেনডর্ফ (Heinzendorf) বর্তমানে চেক প্রজাতন্ত্রের অংশ) গ্রামের এক গরিব কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। জার্মান ও চেক শ্রি বংশোদ্ভুত পিতামাতার দ্বিতীয় সন্তান ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দে অত্যন্ত কৃতিত্বের সাথে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।

অতঃপর মেন্ডেল প্রধানত আর্থিক কারণে ১৮৪৩ খ্রিস্টাব্দে অস্ট্রিয়ার মোরাভিয়া অঞ্চলে ব্রন (Brun, বর্তমানে ব্রুনো: Brno; চেক প্রজাতন্ত্র) নামক স্থানের অগাস্টিনিয়ান মঠে শিক্ষানবীশ হিসেব যোগদান করেন। চার বৎসর পর তিনি যাজক হন। ১৮৪৯ খ্রিষ্টাব্দে স্নেম প্রিপারেটরি স্কুলে শিক্ষকতা শুরু করেন। অতঃপর ১৮৫১ খ্রিস্টাব্দে ভিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে ১৮৫৩ পর্যন্ত পড়াশোনা করে ব্রুনে ফিরে আসেন। ব্রুনে মডার্ন স্কুলে ১৮৫৪ খ্রিস্টাব্দে বিজ্ঞানের সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন এবং ১২ বৎসর একজন সার্থক শিক্ষক হিসেবে সুনামের সাথে কর্মরত ছিলেন। দীর্ঘ সাত বৎসর গবেষণা করেন।

জোহান গ্রেগর মেন্ডেল স্কুলে শিক্ষকতা করার সময় মঠের বাগানে অবসর সময়ে মটরশুঁটি উদ্ভিদ নিয়ে ১৮৫৭ থেকে গবেষণা শুরু করেন। উল্লেখ্য, মটরশুঁটির বৈজ্ঞানিক নাম— Pisum sativum (পিসাম স্যাভিটাম)। সঙ্করায়ণ (Hybridization) পরীক্ষার জন্য মটরশুঁটি উদ্ভিদকে নির্বাচন করেন। মটরশুঁটি উদ্ভিদ উভলিঙ্গী, স্বপরাগায়নের মাধ্যমে যৌন প্রজনন সম্পন্ন হয়। পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবককে ঘিরে দলমণ্ডল (Corolla) এমনভাবে সজ্জিত যে, পরনিষেকের (Cross fertilization) কোন সম্ভাবনা নেই। ফলে বিভিন্ন জাতের (Variety) মটরশুঁটি উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্যগুলো খাঁটি বা বিশুদ্ধ অবস্থায় আছে। অত্যন্ত অল্প সময়ে এর জীবনচক্র সম্পন্ন হয় এবং স্বল্প শ্রম ও ব্যয়ে অধিক সংখ্যক অপত্য বংশ উৎপন্ন হয়। অপত্য বংশে কয়েকটি বৈশিষ্ট্যের স্পষ্ট প্রকাশ পরীক্ষার ক্ষেত্রে সহায়ক হয়েছিল।

মেন্ডেল বিভিন্ন উৎস হতে ৩৪ ধরনের মটরশুঁটি উদ্ভিদের বীজ সংগ্রহ করে আশ্রমের বাগানে প্রায় এক বৎসর প্রত্যেক ধরনের বীজের বিশুদ্ধতা পরীক্ষা করেন এবং শেষ পর্যন্ত তাঁর পরীক্ষায় ব্যবহৃত সাতটি চরিত্রের (trait) জন্য (কাণ্ডের দৈর্ঘ্য, ফুলের অবস্থান, ফুলের রং, ফলের বর্ণ, ফলের আকৃতি, বীজের বর্ণ এবং বীজের আকৃতি) একজোড়া করে বিপরীত বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন ১৪টি খাঁটি উদ্ভিদ নির্বাচন করেন। প্রতি জোড়া বৈশিষ্ট্য পরস্পর বিপরীতধর্মী।

মটরশুঁটি উদ্ভিদের নির্বাচিত বৈশিষ্ট্যের প্রতিটি একটি মাত্র জিন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ছিল। বৈশিষ্ট্য নির্বাচনের বিষয়ে মেন্ডেল অত্যন্ত সৌভাগ্যবান ছিলেন। কারণ জটিল বৈশিষ্ট্য নির্বাচন করলে মেন্ডেল বংশগতির অন্তর্নিহিত নীতিগুলো হয়তোবা আবিষ্কার করতে পারতেন না।

জোহান গ্রেগর মেন্ডেল একটি যথাযথ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অবলম্বন করে সঙ্করায়ন পরীক্ষা পরিচালনা করেন। অত্যন্ত সাবধানতার সাথে পরীক্ষণসমূহ নিয়ন্ত্রণ করেন এবং তিনি যে পরাগরেণু স্থানান্তর করেছেন তার দ্বারাই পরাগায়ন হয়েছে তা নিশ্চিত করেন। সঙ্করায়নকালে মেন্ডেল অপত্য অংশে একসাথে মাত্র একটি চরিত্র পর্যবেক্ষণ করেন এবং সম্পূর্ণ উপাত্ত (data) সংরক্ষণ করেন। অতঃপর পরিসংখ্যান (statistics) এর প্রয়োগ দ্বারা এ উপাত্ত থেকেই লব্ধ ফলাফলের যুক্তিযুক্ত বিশ্লেষণপূর্বক এবং একটানা প্রায় এক দশকের নিরলস পরিশ্রম দ্বারা বংশগতির নিয়ম সম্পর্কে পার্টিকুলেট থিওরি (Particulate Theory) উপস্থাপন করেন।

১৮৬৫ খ্রিস্টাব্দে ফেব্রুয়ারি ও মার্চে সঙ্করায়ন ও বংশগতি সম্বন্ধে তাঁর গবেষণার বিবরণ ও ফলাফল ব্রুন ন্যাচারাল হিস্ট্রি সোসাইটির পরপর দুটি বৈজ্ঞানিক সভায় উপস্থাপন করেন। সোসাইটির বার্ষিক মুখপত্রেও গবেষণা পত্রটি প্রকাশিত হয়।

অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের বিষয় তৎকালীন বিশ্বে কেউই ধর্মযাজক মেন্ডেল এর গবেষণা ফলাফলের গুরুত্ব উপলব্ধি করেননি। ১৮৬৮ খ্রিস্টাব্দে মেন্ডেল মঠাধ্যক্ষ নিযুক্ত হন এবং ১৮৮৪ খ্রিস্টাব্দে ৬ জানুয়ারি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। জীবদ্দশায় তাঁর গবেষণা কর্মের জন্য তিনি কোনো স্বীকৃতি লাভ করেননি।

মেন্ডেলের গবেষণাপত্র প্রকাশের ৩৫ বৎসর পর বিংশ শতাব্দীর শুরুতেই হল্যান্ডের ডি ভ্রিস (de Vries), জার্মানির কার্ল করেন্স (Karl Correns) ও অস্ট্রিয়ার শেরমাক (Tschermak) পৃথক পৃথকভাবে গবেষণা করে মেন্ডেল এর ফলাফলকে সমর্থন করেন। বর্তমানে বিশ্বে মেন্ডেল এর আবিষ্কার অর্থাৎ পার্টিকুলেট থিওরি (Particulate Theory) একটি বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। পার্টিকুলেট থিওরিতে বর্ণিত সুত্রগুলো জেনেটিক্সে মেন্ডেলের সূত্র (Mendel’s Law) নামে অভিহিত। মেন্ডেলের সূত্র অনুযায়ী জীবের বৈশিষ্ট্যসমূহ বংশগতিতে সঞ্চারণের যে ব্যাখ্যা দেয়া হয় তাকেই মেন্ডেলতত্ত্ব Mendelism) বলে। মেন্ডেলতত্ত্ব আধুনিক জেনেটিক্স এর প্রধান ভিত্তি। এ কারণেই মেন্ডেলকে জেনেটিক্স এর জনক বলা হয়ে থাকে।

পার্টিকুলেট থিওরী (Particulate Theory) বা মেন্ডেলতত্ত্ব (Mendelism) অনুযায়ী জীবে বংশগতির একক বিদ্যমান থাকে বা মিশ্রিত হয়না, শুধুমাত্র সুপ্ত থাকে। মেন্ডেলের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মটরশুঁটি উদ্ভিদে প্রতিটি চরিত্রের (trait) জন্য (কাণ্ডের দৈর্ঘ্য, ফুলের অবস্থান, রং, ফলের বর্ণ, ফলের আকৃতি, বীজের বর্ণ এবং বীজের আকৃতি) এক জোড়া ফ্যাক্টর থাকে, যার একটি আসে পিতা থেকে এবং অপর একটি আসে মাতা থেকে। গ্যামিটে শুধু একটি একক উপস্থিত থাকে এবং পরবর্তী জনুতে সঞ্চারিত হয়। মেন্ডেল বর্ণিত পার্টিকল বা ফ্যাক্টর অবশ্যই জিন। আর একটি মাত্র জিন দ্বারা সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রিত বৈশিষ্ট্য মেন্ডেলিয়ান বৈশিষ্ট্য (Mendelian trait) বলে এবং মেন্ডেলিয়ান বৈশিষ্ট্যর সঞ্চায়ণকে মেন্ডেলিয়ান বংশগতি (Mendelian inheritance) বলা হয়।

 

আরও দেখুনঃ

Leave a Comment