প্রাচীন ধর্মবিশ্বাস

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় প্রাচীন ধর্মবিশ্বাস। ধর্মের ইতিহাস বলতে বুঝায় মানুষের ধর্মীয় অভিজ্ঞতা এবং ধারনাগুলোর লিখিতরূপ, যা বর্তমানে সংরক্ষিত রয়েছে। ধর্মীয় ইতিহাসের প্রাথমিক যুগ শুরু হয় প্রায় ৫২০০ বছর আগে (৩২০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ), যখন মানুষ লেখার পদ্ধতি আবিষ্কার করে। ধর্মের পূর্ব ইতিহাসের লিখিত দলিল না থাকায় তা মানুষের বিদ্যমান ধর্মীয় বিশ্বাসের গবেষণার সাথে জড়িত। ধর্মের নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে তুলনামূলক ধর্মীতত্ত্ব নিয়ে যে কেউ গবেষণা করতে পারেন। ধর্মের লিখিত রূপ লেখার সময় বা অবস্থান নির্বিশেষে ধর্মীয় গ্রন্থকে সুষম মানদণ্ডে উন্নীত করতে একটি প্রধান ভূমিকা পালন করে। এছাড়া এর মাধ্যমে প্রার্থনা ও ধর্মীয় নিয়মগুলো এর অনুসারীরা সহজে স্মরণে রাখতে পারেন। বাইবেলের ক্ষেত্রে শতাব্দীকাল পর্যন্ত একাধিক মৌখিক গ্রন্থে সংরক্ষণ করা হয়েছিলো।

প্রাচীন ধর্মবিশ্বাস

 

প্রাচীন ভারতের সিন্ধু

 

“ধর্ম” ধারণাটি ষোড়শ ও সপ্তদশ শতকে গঠিত হয়েছিল, যদিও বাইবেল, কুরআন এবং অন্যান্য প্রাচীন পবিত্র গ্রন্থগুলোর মধ্যেও ধর্মের ধারণা ছিল না, এমনকি এই পবিত্র গ্রন্থে লিখিত বিষয়াদি বা অনুসরণকারী মানুষের সংস্কৃতিতেও না।

একবিংশ শতাব্দীতে ব্যবহৃত “ধর্ম” শব্দটির অ-ইউরোপীয় ভাষার মধ্যে পূর্ব-উপনিবেশিক অনুবাদ নেই। নৃতত্ত্ববিদ ড্যানিয়েল ডুবুইসন লিখেছেন, “পশ্চিমা দেশ ও ধর্মের ইতিহাসগুলো কীভাবে তার ধর্মের অধীনে ‘ধর্ম’ নামে অভিহিত করেছে … যা একেবারেই অনন্য, যা শুধুমাত্র নিজের এবং নিজের ইতিহাসের জন্য উপযুক্ত হতে পারে”। “ধর্মীয়” বিষয়ের সাথে অন্যান্য সংস্কৃতির মিথষ্ক্রিয়ার ইতিহাস, যা প্রথমত ইউরোপে খ্রিস্টানদের প্রভাবের ফলে বিকশিত হয়েছিল।

 

প্রাচীন ধর্মবিশ্বাস

সিন্ধু সভ্যতার যুগের মানুষদের ধর্মবিশ্বাস সম্বন্ধে কিছু নিশ্চিত করে বলা কঠিন। কারণ, এখানে কোনো ধর্ম মন্দির বা উপাসনালয় পাওয়া যায়নি। তবে ষাঁড়,কুমির, সাপ ও গাছের পূজা হত বলে অনুমান করা হয়।

পোড়ামাটি নির্মিত মাতৃকা মূর্তি ও পশুবেষ্টিত পুরুষমূর্তি দেখে অনুমান করা হয় যে, এখানকার মানুষ জগৎমাতা দেবীর ও জগ ৎপিতা পশুপতি- নাথের পূজা করত। মাটির নিচে প্রাপ্ত মানুষের কঙ্কালের সাথে কিছু অস্ত্রশস্ত্র পাওয়া গেছে। তাতে অনুমান করা হয়, বৈদেশিক শত্রুর আক্রমণে এ সভ্যতা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।

আমাদের গুগল নিউজে ফলো করুন
আমাদের গুগল নিউজে ফলো করুন

 

এ বৈদেশিক শত্রুরা ছিল ভারতবর্ষে অনুপ্রবেশকারী আর্যগণ। অনেকের মতে, সিন্ধুনদের বন্যায় অথবা নদীর খাত বদলের ফলে এ সভ্যতা ধ্বংস হয়। সিন্ধু-সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কারের ফলে, প্রাচীন আর্য সভ্যতার পূর্বেও যে এ দেশে নগর সভ্যতার সূত্রপাত হয়েছিল তা নিঃসেন্দেহে প্রমাণিত হয়েছে। তবে এ সভ্যতা ব্রোঞ্জযুগের সভ্যতা, এ কারণেই সভ্যতার খুব বেশি বিস্তৃতি ঘটেনি।

 

প্রাচীন ধর্মবিশ্বাস

 

এর পরবর্তীকালে আর্যগণ ভারতবর্ষে গ্রামীণ সভ্যতা গড়ে তুলেছিল। কালক্রমে লোহার হাতিয়ারের প্রচলন ঘটেছিল এবং ভারতবর্ষের সুবিস্তির্ণ অঞ্চলে আর্যদের এ গ্রামীণ সভ্যতার দ্রুত বিকাশ ঘটেছিল।

আরও দেখুন :

Leave a Comment