আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় নিরাণ্ডার্থাল মানুষ
নিরাণ্ডার্থাল মানুষ
নিরাণ্ডার্থাল মানুষ
তৃতীয় বরফ যুগে, হয়তো আজ থেকে পৌনে দুই লক্ষ বা দুই লক্ষ বছর আগে, আরও উন্নত ধরনের মানুষের আবির্ভাব ঘটেছিল। জার্মানির নিয়াণ্ডার্থাল নামক স্থানে এদের কঙ্কালের সন্ধান প্রথম পাওয়া গিয়েছিল বলেই তাদের এ নাম দেওয়া হয়েছে। তবে তারপর ইউরোপ, এশিয়া, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে এ ধরনের মানুষ যে এককালে বাস করত তার নানা নিদর্শন পাওয়া গেছে। এরা আকারে খাটো ছিল, তাদের হাত-পা ছিল শক্তিশালী। এদের মস্তিষ্ক ছিল আধুনিক মানুষের মতোই বড়।
নিয়াণ্ডার্থাল মানুষ বাইসন, লোমশ ম্যামথ, লোমশ গণ্ডার, বন্য ঘোড়া, হিংস্র বন্য মহিষ ইত্যাদি শিকার করত। এরা সব ছিল বরফ যুগের প্রাণী। বাইসন হচ্ছে মস্ত বড় এক ধরনের ষাঁড় বা মহিষজাতীয় প্রাণী আর ম্যামথ হচ্ছে বিশাল আকৃতির এক ধরনের হাতি। ম্যামথরা বহুদিন হল পৃথিবী থেকে লোপ পেয়ে গেছে। হায়েনা, সিংহ, চিতাবাঘ প্রভৃতির সাথেও নিয়াণ্ডার্থাল মানুষের ভালই পরিচয় ছিল। এ ছাড়া গুহাবাসী ভালুককে মেরে বা তাড়িয়ে মানুষরা সেসব গুহা দখল করে বাস করত।
নিয়াণ্ডার্থাল মানুষ বহু রকমের পাথরের হাতিয়ার তৈরি করত। শিকার করার এবং শিকারের পশুকে হত্যা করা, তার চামড়া ছাড়ানো, মাংস কাটা, হাড় কাটা, হাড় বা কাঠ ফুটো করা, মাটি খোঁড়া প্রভৃতি কাজের জন্য আলাদা আলাদা হাতিয়ার ছিল। নিয়াণ্ডার্থাল মানুষ মৃতদের কবর দিত।
মানুষের ইতিহাসে এটা এক নতুন ঘটনা। মৃতদেহকে পাথরের গর্তে রেখে তার পাশে তার ব্যবহৃত হাতিয়ার ইত্যাদি, খাদ্য, ফুল-মালা, দেহকে উষ্ণ রাখার জন্য আগুনের পাত্র প্রভৃতি রাখত, উপরে পাথরের ছাদ দিয়ে দিত ।
নিয়াণ্ডার্থাল মানুষ ছিল দৈহিক শক্তির অধিকারী এবং দক্ষ শিকারী। আগুন এবং হাতিয়ার তারা করায়ত্ত করেছিল। এবং শিকার করার মতো অনেক প্রাণীও তখন ছিল। তবুও প্রায় ৩৫ হাজার বছর আগে এরা পৃথিবী থেকে লোপ পেয়ে যায়। ততদিনে তাদের চেয়েও উন্নত ধরনের মানুষের উদ্ভব হয়েছিল। হয়তো উন্নত মানুষদের কাছে প্রতিযোগিতায় হেরে গিয়ে অথবা পরিবেশের পরিবর্তনের সাথে নিজেদের খাপ খাওয়াতে না পেরে তারা লুপ্ত হয়েছিল।
তবে এও সম্ভব যে, আধুনিক মানুষের সাথে মিশ্রণের ফলে তাদের জাতিগত পার্থক্য লোপ পেয়েছিল। এরকম হয়ে থাকলে নিয়াণ্ডার্থাল মানুষদের কিছু কিছু দেহ-বৈশিষ্ট্য আমাদের মধ্যেও রয়েছে বলতে হবে।
আরও দেখুন :

