আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় শিকারী মানুষদের মগজ
শিকারী মানুষদের মগজ
শিকারী মানুষদের মগজ
খাড়া মানুষদের সবচেয়ে আশ্চর্য বৈশিষ্ট্য হল তাদের মগজের আকার। মাত্র বিশ লক্ষ বছরের মধ্যেই প্রাচীনতর মানুষের তুলনায় এদের মগজের আকার দ্বিগুণ হয়েছে। এত দ্রুত পরিবর্তন প্রাণীর বিবর্তনের ইতিহাসে খুবই বিরল ঘটনা। সাধারণত কোনো প্রজাতির প্রাণীর রূপান্তর ঘটতে বহু কোটি বছর, কখনও শত কোটি বছর লেগে যায়। মানুষের শিকারী জীবনের কার্যকলাপই সম্ভবত তার দ্রুত দৈহিক বিবর্তনের সহায়ক হয়েছিল।
স্পেনে খাড়া মানুষদের একদল শিকারীর একটা আস্তানার সন্ধান পাওয়া গেছে। আস্তানার এক অংশে শিকার করা পশুকে কেটে টুকরো টুকরো করা হত। আরেকটা অংশে খাওয়া হত। হাড়ের গা থেকে পাথরের ধারালো হাতিয়ার দিয়ে মাংসকে চেঁছে কাটা হত এবং পাথরের হাতিয়ার দিয়ে হাড়কে ভেঙ্গে তার ভিতরের মজ্জা খাওয়া হত। শিকারীদের আস্তানায় যেসব হাড় পাওয়া গেছে সেগুলো হল হাতি, গণ্ডার বা গরু ইত্যাদি বড় বড় বিপজ্জনক জানোয়ারের।
শিকারভূমিতে পাওয়া পোড়া কাঠের টুকরো ইত্যাদি বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন যে, এ শিকারীরা আগুন দিয়ে ভয় দেখিয়ে তাড়িয়ে তাড়িয়ে বড় বড় পশুদের জলাভূমিতে এনে ফেলত এবং তারপর হত্যা করত।
এভাবে বড় বড় প্রাণী শিকার করতে হলে বড় শিকারীদল থাকা দরকার, তাদের উপযুক্ত হাতিয়ার থাকা দরকার। হাতিয়ার তৈরি ও হাতিয়ার ব্যবহারের কৌশল শেখানোর জন্য সামাজিক সহযোগিতা দরকার।
শিকার করার সময় দলেবলে সংগঠিতভাবে কাজ করার জন্য নির্দেশ দান ও নির্দেশ গ্রহণের ব্যবস্থা দরকার। খাড়া মানুষরা সম্ভবত ভাষা আয়ত্ত করেছিল, কারণ শিকারের এত জটিল কলাকৌশল ভাষার সাহায্য ছাড়া বংশানুক্রমে তরুণ ও বালকদের শেখানো সম্ভবই হত না।
বরফ যুগে শুধুমাত্র বেঁচে থাকার জন্যই যথেষ্ট দক্ষতা ও তৎপরতা দরকার। সে অবস্থায় পাথরের হাতিয়ার ও আগুন ব্যবহার করে মানুষ শুধু বেঁচেই থাকেনি, নিজেদের দৈহিক বিকাশও ঘটিয়েছে।
আগুন দিয়ে ভয় দেখিয়ে মানুষ পশু শিকার করত, আগুনের উত্তাপে শীতের আক্রমণ ঠেকাতে পারত, আগুনে সেদ্ধ করা আমিষ ও নিরামিষ (শক্ত মাংস, বাঁশের ডগা ইত্যাদি) থেকে বেশি পরিমাণে পুষ্টি গ্রহণ করতে পারত।
আগুনে পোড়ানো বা রান্না করা খাদ্য গ্রহণের অভ্যাসের ফলে সম্ভবত মানুষের আয়ুবৃদ্ধিও ঘটেছিল। কারণ কাঁচা খাবার খেলে যত তাড়াতাড়ি দাঁত ক্ষয় হত, রান্না করা খাদ্যে তত দ্রুত ক্ষয় হত না।
আরও দেখুন :

