সাঁওতাল জনগোষ্ঠী পরিচিতি

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় সাঁওতাল জনগোষ্ঠী পরিচিতি নিয়ে। সাঁওতালদের সম্পর্কে আপনি কতটা জানেন, কিভাবে জানেন, একটু ভেবে দেখবেন কি? মাদলের তাল, বাঁশীর সুর ও হাড়িয়ার মাদকতা সহযোগে নৃত্যগীত-উৎসবে মেতে আছে নারী পুরুষ সকলে – সাঁওতাল জীবনের এরূপ চিত্রায়নের সাথে শিল্প, সাহিত্য, ছায়াছবি প্রভৃতির মাধ্যমে আপনি হয়তবা পরিচিত হয়ে থাকবেন।

সাঁওতাল জনগোষ্ঠী পরিচিতি

 

সাঁওতাল জনগোষ্ঠী পরিচিতি
সাঁওতাল জনগোষ্ঠী পরিচিতি

 

সাঁওতালরা দেখতে কেমন, এ সম্পর্কেও হয়ত বিভিন্ন সূত্রে আপনার একটা পূর্ব-ধারণা থাকতে পারে। সব মিলিয়ে বাংলা অঞ্চলের প্রধান একটি আদিম জনগোষ্ঠী হিসাবে সাঁওতালদের সম্পর্কে বাঙালী জনমানসে বেশ কিছু বদ্ধমূল ধারণা রয়ে গেছে, যেগুলোর প্রধান দুটি দিক রয়েছে।

একদিকে শিল্প-সাহিত্য-সঙ্গীতে সাঁওতালদের একটা রোমান্টিক প্রতিচ্ছবি চোখে পড়ে, যেখানে তারা হয়ে দাঁড়ায় আদিম সারল্যের প্রতিমূর্তি, এবং কখনোবা সুদূর অতীতে ফেলে আসা বাঙালীদের কোন পূর্বতন সত্তা বা ঐতিহ্যের প্রতিচ্ছায়া; অন্যদিকে দৈনন্দিন জীবনে সাঁওতালদের অনেকে বাঙালীদের কাছে অচ্ছুৎ হিসাবেও গণ্য হয়ে এসেছে, যেমন উত্তরবঙ্গের অনেক স্থানে সাঁওতালদেরকে দোকানে চা খেতে দেওয়া হত না, এমন ঘটনার বিবরণ পাওয়া যায়, যে প্রবণতা এখনো পুরোপুরি ঘুচে যায়নি।

 

আমাদের গুগল নিউজে ফলো করুন
আমাদের গুগল নিউজে ফলো করুন

 

সাধারণভাবে বলা চলে, সাঁওতালদের সম্পর্কে সংখ্যাগুরু বাঙালীদের অধিকাংশের ধারণা অস্পষ্ট, অনেকক্ষেত্রে কল্পনাশ্রয়ী, এবং সচরাচর অবজ্ঞাসূচক। একথা শুধু বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেই সত্য তা নয়, বরং ভারতের পশ্চিম বঙ্গের বেলায়ও প্রযোজ্য, যেখানে অনেক বেশী সংখ্যায় সাঁওতালদের বসবাস রয়েছে। (ভারতে সাঁওতালদের মোট সংখ্যা অর্ধকোটির মত হতে পারে। বিহার ও পশ্চিমবঙ্গে সর্বাধিক সংখ্যক সাঁওতালদের বসবাস। ছোট নাগপুর, সাঁওতাল পরগণা প্রভৃতি হচ্ছে মূল সাঁওতাল-অধ্যুষিত এলাকা।

এছাড়া উড়িষ্যা, আসাম, ত্রিপুরা প্রভৃতি ভারতীয় অঙ্গরাজ্যে, এবং নেপালেও সাঁওতালদের বসবাস রয়েছে।) ১৯৯১ সালের আদমশুমারী অনুযায়ী বাংলাদেশে দুই লক্ষাধিক সাঁওতাল রয়েছে, যাদের অধিকাংশ বাস করে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় – যেমন, রাজশাহী, দিনাজপুর, নওগাঁ, বগুড়া, চাপাইনবাবগঞ্জ, রংপুর, পঞ্চগড়, নাটোর, ঠাকুরগাঁও প্রভৃতি।

অবশ্য উত্তরবঙ্গে দৈহিক বৈশিষ্ট্যে সাঁওতালদের সাথে মিল রয়েছে, এমন অন্যান্য আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সদস্যদেরও (সংখ্যায় যারা ক্ষুদ্রতর) সাধারণভাবে সাঁওতাল বলেই মনে করা হয়। উত্তরবঙ্গের বাইরে সিলেটের চা বাগান এলাকায়ও সাঁওতালদের দেখা মেলে শ্রমিক হিসাবে। এমনকি পার্বত্য চট্টগ্রামে খাগড়াছড়ি জেলার মত দূরবর্তী স্থানেও সাঁওতাল পল্লীর অস্তিত্ব রয়েছে।

 

সাঁওতাল জনগোষ্ঠী পরিচিতি
সাঁওতাল জনগোষ্ঠী পরিচিতি

 

সরল ও আমোদপ্রিয় জনগোষ্ঠী হিসাবে সাঁওতালদের যে সাধারণ পরিচিতি রয়েছে, তার বাইরে এই উপমহাদেশের ইতিহাসে তাদের রয়েছে সংগ্রামের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। অধিকন্তু বাংলা ভাষা তথা বাঙালী জনসমষ্টির আবির্ভাবের ইতিহাস তলিয়ে দেখলেও সাঁওতাল ও সম্পর্কিত অন্যান্য আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সাথে সুদূর অতীতের ঘনিষ্ঠ যোগসূত্র আবিষ্কৃত হয়। কাজেই নীচে আমরা সেসব ইতিহাস সংক্ষেপে পর্যালোচনা করব।

 

সাঁওতাল জনগোষ্ঠী অধ্যায়ের সারাংশ

 

সাঁওতাল জনগোষ্ঠী অধ্যায়ের সারাংশ:

আজকের আলোচনার বিষয় সাঁওতাল জনগোষ্ঠী অধ্যায়ের সারাংশ – যা সাঁওতাল জনগোষ্ঠী এর অর্ন্তভুক্ত, সাঁওতালরা এ উপমহাদেশের অন্যতম একটি সংখ্যাবহুল আদিবাসী জনগোষ্ঠী, বাংলাদেশে যাদের একট ক্ষুদ্রাংশ মাত্র – সংখ্যায় দুই লক্ষাধিক – বসবাস করছে। বহু শতাব্দী ধরে জাতিগত বৈষম্য ও সামন্ত-ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেই সাঁওতালরা তাদের আত্মপরিচয় সমুন্নত রেখেছে।

 

সাঁওতাল জনগোষ্ঠী অধ্যায়ের সারাংশ

 

অনেক গবেষকের মতে বাংলা ভাষা তথা বাঙালী জনগোষ্ঠী ও তাদের সংস্কৃতির উৎপত্তির ইতিহাসের সাথে সাঁওতালদের মত আদিবাসী জনগোষ্ঠীদের পূর্বসূরীদের ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততা ছিল। উদাহরণস্বরূপ, বাংলা ভাষার ‘দেশী’ শব্দ ভান্ডার সেই সাক্ষ্যই দেয়। তবে সাধরাণভাবে বাঙালী ভদ্রলোকেরা তাদের জাত্যাভিমানের কারণে সাঁওতালদের সাথে তাদের এই ‘আত্মীয়তা’কে রোমান্টিকতা বা অবজ্ঞা-উপেক্ষার আড়ালেই লুকিয়ে রেখেছে।

 

আমাদের গুগল নিউজে ফলো করুন
আমাদের গুগল নিউজে ফলো করুন

 

অধিকন্তু ঐতিহাসিকভাবে তাদের অনেকে ‘ডিকু’র ভূমিকায় সাঁওতালদের বিরুদ্ধে ঔপনিবেশিক ব্যবস্থার আগ্রাসনে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। তবে সাঁওতালরা নিজেরা এই আগ্রাসন বিনা বাধায় মেনে নেয় নি, বরং বিভিন্ন সময়ে তারা বিদ্রোহ ও সংগ্রাম করেছে শোষণ-নিপীড়নের বিরুদ্ধে। বাংলাদেশের সাঁওতালরা অধিকাংশই দরিদ্র ও শিক্ষাবঞ্চিত হলেও বিভিন্নভাবে তারাও প্রতিকূল পরিবেশের খাপ খাইয়ে চলার চেষ্টা করছে।

 

আরও দেখুনঃ

Leave a Comment