লিঙ্গের ভিত্তিতে বিভাজন

আজকে আমরা আলোচনা করবো লিঙ্গের ভিত্তিতে বিভাজন নিয়ে। দৈহিক নৃবিজ্ঞান (physical anthropology) চর্চার প্রারম্ভিক কালে নারী ও পুরুষের মধ্যকার পার্থক্য বা প্রভেদকে শারীরিক বৈশিষ্ট্য দিয়ে বিচার করা হ’ত। নারী ও পুরুষের শরীরের গড়নের ভিন্নতা নিয়ে তাঁদের আলাপ-আলোচনার সূচনা হয়ে থাকে। কিন্তু সেই প্রক্রিয়ায় সমাজে নারী-পুরুষের ক্ষমতা, মর্যাদা কিংবা অন্যান্য সুযোগের পার্থক্য বোঝা যায় না।

লিঙ্গের ভিত্তিতে বিভাজন

 

লিঙ্গের ভিত্তিতে বিভাজন

 

সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞান তাই গোড়া থেকেই অন্য উপায়ে সমাজের মধ্যকার নারী-পুরুষের পার্থক্য দেখবার চেষ্টা করেছেন। খেয়াল রাখা দরকার নৃবিজ্ঞানের | প্রাথমিক কালে গবেষণা করা হ’ত কেবল অ-ইউরোপীয় সমাজের মধ্যে। তাই প্রাথমিক নৃবিজ্ঞানে দেখা | হ’ত কোন সমাজে নারী ও পুরুষের মধ্যে কি ধরনের ভিন্নতা আছে: দায়িত্বের দিক থেকে, কোন র-অনুষ্ঠানে অংশগ্রহনের দিক থেকে, অর্থনৈতিক কার্যক্রমে অংশ গ্রহণের দিক থেকে, কিংবা আচার- | সমাজে মর্যাদার দিক থেকে। প্রাথমিক কালের নৃবিজ্ঞানের বই-পত্রে এই বিষয়ে আলাপ পাওয়া যেত। 

আর এই অধ্যয়নকে বলা হ’ত নারী-পুরুষের প্রভেদ। কিন্তু এখানে আরও একটি বিষয় খুব গুরুত্ব দিয়ে মনে রাখার আছে। তা হ’ল: ‘৬০ ‘৭০ দশকে পৃথিবী জুড়ে সমাজে নারীর অবস্থান নিয়ে ভীষণ বিতর্ক – ওঠে। এই বিতর্ক তোলেন নারীর পক্ষে আন্দোলনের কর্মীরা এবং নারীর অবস্থান নিয়ে চিন্তিত শিক্ষাবিদেরা। এই বিতর্কে নারীর সামাজিক অবস্থানের ক্ষেত্রে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয় মর্যাদা, | ক্ষমতা এবং সম্পদের বিষয়গুলোকে। সেটা করতে গিয়েই মূল্যবোধ ও দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আলোচনা চলে আসে। সে প্রসঙ্গে পরে আসা যাবে।

 

আমাদের গুগল নিউজে ফলো করুন
আমাদের গুগল নিউজে ফলো করুন

 

এই বিতর্কের তোলপাড় বিভিন্ন জ্ঞানকান্ডে এসে পড়ে। নারী বিষয়ক মনোযোগ তাতে একেবারে বদলে যায়। নৃবিজ্ঞানও তার ব্যতিক্রম নয়। এই সময়ে এসে নারী বিষয়ক পড়াশোনাকে নারী চিন্তাবিদেরা আর | নারী-অধ্যয়ন (women’s studies) বলতে চাইলেন না। তাঁদের পরিষ্কার কিছু যুক্তি ছিল। যেহেতু নারীর অবস্থান সমাজে পুরুষের অবস্থানের সঙ্গে সম্পর্কিত, তাই নারী ও পুরুষের অবস্থানের পার্থক্য | একটা তুলনামূলক ব্যাপার। একই সঙ্গে নারী ও পুরুষের মধ্যকার সম্পর্ক বোঝাটাও গুরুত্বপূর্ণ। তাই নারী পুরুষের সামাজিক সম্পর্কে মনোযোগ দিতে চাইলেন তাঁরা।

এতে নতুন একটা ধারণা বা প্রত্যয় দেখা গেল। ইংরেজীতে তা হচ্ছে জেন্ডার (gender) । সেক্স ( sex ) শব্দটা দিয়ে নারী ও পুরুষের মধ্যকার শারীরিক বা জৈবিক পার্থক্য বোঝাতো। সেটা এখনও বোঝায়। কোন দরখাস্ত পূরণ করতে গেলে দেখা যায় সেখানে ‘সেক্স’ জানতে চাওয়া হয়। বিতর্কের পরবর্তী পর্যায়ে ইংরেজি ভাষায় জেন্ডার শব্দটি ব্যবহার শুরু হ’ল। এই শব্দ দ্বারা সমাজে নারী ও পুরুষের মধ্যকার বৈষম্যকে কিংবা সামাজিক অবস্থানকে বোঝানো হয়। ‘৮০-এর দশকে বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের কর্মী ও চিন্তাবিদেরা মিলে এই জেন্ডার শব্দটির বাংলা প্রতিশব্দ বাছাই করেছেন ‘লিঙ্গ’।

 

লিঙ্গের ভিত্তিতে বিভাজন

 

তাই লিঙ্গীয় সম্পর্ক বলতে নারী-পুরুষের সামাজিক সম্পর্ক বোঝায়। আর লিঙ্গীয় বৈষম্য বলতে নারী-পুরুষের মধ্যকার সামাজিক অসমতা বোঝায়। এখানে অসমতা বলতে সহজভাবে ক্ষমতা, মর্যাদা আর সম্পদের পার্থক্যকে বোঝা যেতে পারে। তবে নারী ও পুরুষ ছাড়া আরও একটি লিঙ্গ সমাজে আছে। তাঁদের কথা স্মরণে না রাখলে চলবে না। কারণ তাঁরাও হিজড়া একটা সুবিধা বঞ্চিত লিঙ্গ এবং নির্যাতিত।

 

লিঙ্গের ভিত্তিতে বিভাজন অধ্যায়ের সারাংশ

 

লিঙ্গের ভিত্তিতে বিভাজন অধ্যায়ের সারাংশ:

আজকের আলোচনার বিষয় লিঙ্গের ভিত্তিতে বিভাজন অধ্যায়ের -সারাংশ – যা  লিঙ্গের- ভিত্তিতে বিভাজন এর অর্ন্তভুক্ত, অধিকাংশ সমাজেই নারী-পুরুষের মধ্যে নানান ধরনের সামাজিক বৈষম্য রয়েছে। তা নিয়ে সমাজ-চিন্তুক এবং নৃবিজ্ঞানীরা কাজ করেছেন।

 

লিঙ্গের ভিত্তিতে বিভাজন অধ্যায়ের সারাংশ

 

প্রথম দিকের নৃবিজ্ঞারীরা মনোযোগ দিয়েছেন উৎপাদন কাজে নারীদের অংশগ্রহণ, সম্পদের উপর তাঁদের অধিকার এবং মান-মর্যাদার উপর। এঁদের মধ্যে কেউ কেউ মনে করেছেন এক সময়ে পৃথিবীতে নারীকেন্দ্রিক সমাজ ছিল। গত ৩/৪ দশক ধরে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে নারীদের লড়াই-সংগ্রাম জোরাল ছিল। এতে নৃবিজ্ঞান সহ অন্যান্য জ্ঞানকান্ডে নারী-পুরুষের সম্পর্ক নিয়ে যুক্তি-তর্ক নতুন রূপ পেয়েছে। কেবল সম্পদের উপর দখল নয়, সমাজে যে ভাবনা-চিন্তা, মূল্যবোধ চালু সেটাও নারীর বিরুদ্ধে ক্রিয়াশীল বলে গবেষকরা দেখাচ্ছেন। 

 

লিঙ্গের ভিত্তিতে বিভাজন অধ্যায়ের সারাংশ

 

আরও দেখুনঃ

Leave a Comment