লিঙ্গীয় ও শ্ৰেণী সম্পৰ্ক

আজকে আমারা আলোচনা করবো লিঙ্গীয় ও শ্ৰেণী সম্পৰ্ক নিয়ে ।  নৃবিজ্ঞানের ধ্রুপদী বিবর্তনবাদী যুগে, বিশেষ করে মর্গান এবং এঙ্গেলসের কাজে, শ্রেণী এবং লিঙ্গ প্রসঙ্গ আলোচিত হয়েছিল। এ দুয়ের মধ্যকার সম্পর্ক গুরুত্ব পেয়েছিল। এঙ্গেলস যুক্তি দাঁড় করিয়েছিলেন যে, শ্রেণী বিভাজিত সমাজের উদ্ভবের সাথে পরিবার এবং বিয়ে ব্যবস্থা পরিবর্তিত হয়।

ব্যক্তি মালিকানাধীন ব্যবস্থায় পুরুষ হয়ে উঠে ক্ষমতাশালী এবং নারী হয়ে উঠে অধস্তন। এই ইউনিটের এক নম্বর পাঠে এসব আপনারা জেনেছেন। পরবর্তী সময়ে, নৃবিজ্ঞান যখন একটি স্বতন্ত্র জ্ঞানকান্ড হিসেবে স্বীকৃতি পায় এবং বেড়ে উঠে, শ্রেণীর প্রসঙ্গটি গুরুত্বহীন হয়ে পড়ে। এ সময়ে পরিবারের প্রসঙ্গটি বিভিন্ন ভাবে উত্থাপিত হয়।

 লিঙ্গীয় ও শ্ৰেণী সম্পৰ্ক

 

 লিঙ্গীয় ও শ্ৰেণী সম্পৰ্ক

 

এই পাঠের প্রথম অংশে আলোচিত হবে, বিংশ শতকের প্রথমার্ধে নৃবিজ্ঞানীরা কিভাবে পরিবারের নির্যাস বা মৌলিকত্ব অনুসন্ধানের চেষ্টা চালান। নৃবিজ্ঞানের এই অনুসন্ধানে, নারী-পুরুষ সম্পর্ক উদ্‌ঘাটনে, প্রাধান্য পেয়েছিল “পিতৃত্ব” এবং “মাতৃত্ব”-এর ধারণা। ব্রনিসলো ম্যালিনোস্কি এবং মেয়ার ফোর্টসের মতন নৃবিজ্ঞানী এ ধরনের জিজ্ঞাসা দাঁড় করান: পিতা বা মাতা হওয়ার মৌলিক অর্থ কি? অর্থাৎ, তাঁদের জিজ্ঞাসা ছিল পিতা বা মাতা হওয়ার এমন কোন নিগূঢ় অর্থ আছে কিনা যা স্থান-কালের নির্দিষ্টতা মানে না, এক সংস্কৃতি হতে আরেক সংস্কৃতিতে, বা এক সময়কাল হতে আরেক সময়কালে ভিন্ন হয় না।

স্থান-কাল বিহীন আলোচনা করার প্রবণতাকে বলা হয় নির্যাসকরণ (essentializing)। এই প্রবণতা সর্বজনীন তত্ত্ব দাঁড় করানোর সাথে যুক্ত। সহজ ভাষায় বললে, সর্বজনীন তত্ত্বের মানে হচ্ছে এমন একটি তত্ত্ব যা কিনা “অল-সাইজ” জামার মতন। এমন একটি জামা যা সকল সাইজের মানুষের গায়ে লাগে। এই প্রবণতা শুধু মাত্র ম্যালিনোস্কি বা মেয়ার ফোর্টস না, বহু নৃবিজ্ঞানী, সামাজিক বিজ্ঞানী এবং অন্যান্য তাত্ত্বিক ও চিন্তাবিদের কাজে লক্ষণীয়।

 

আমাদের গুগল নিউজে ফলো করুন
আমাদের গুগল নিউজে ফলো করুন

 

মার্কিনী সমাজবিজ্ঞানী ট্যালকট পারসন্স এর পরিবার সম্পর্কিত তত্ত্ব ধ্রুপদী আধুনিকায়ন পজিশনকে ব্যক্ত করে। তাঁর মতে, শিল্পভিত্তিক সমাজে জ্ঞাতিত্ব হয়ে উঠে সীমিত, সংকীর্ণ। এই তত্ত্ব বিংশ শতকের মাঝামাঝি খুব প্রভাবশালী ছিল। এই তত্ত্ব কেবলমাত্র সমাজবিজ্ঞানীদের নয়, নৃবিজ্ঞানীদেরও প্রভাবিত করে। তাঁর প্রধান বক্তব্যের নতুন নতুন সংস্করণ তাঁর মৃত্যুর পরে, এমন কি আজ অব্দি, সময়ে সময়ে পয়দা হতে থাকে।

 

 লিঙ্গীয় ও শ্ৰেণী সম্পৰ্ক

 

এই পাঠের দ্বিতীয় অংশে পারসন্সের পরিবার সম্পর্কিত ভাবনা চিন্তা তুলে ধরা হবে। তৃতীয় অংশে আলোচনা করা হবে মার্কিনী নৃবিজ্ঞানী রায়না র‍্যাপের পরিবার সম্পর্কিত তাত্ত্বিক উপলব্ধি। র‍্যাপ বলেছেন শ্রেণী ও লিঙ্গীয় সম্পর্কের আন্তঃপ্রবিষ্টতার কথা। এই আন্তঃপ্রবিষ্টতা গঠন করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরিবার এবং পারিবারিক সম্পর্ক। মার্কিন সমাজে পারিবারিক সম্পর্কের একটি কেস স্টাডি রয়েছে এই পাঠের শেষে ।

 

লিঙ্গীয় ও শ্ৰেণী সম্পৰ্ক অধ্যায়ের সারাংশ 

 

লিঙ্গীয় ও শ্ৰেণী সম্পৰ্ক অধ্যায়ের সারাংশ :

আজকের আলোচনার বিষয়  লিঙ্গীয় ও শ্ৰেণী সম্পৰ্ক অধ্যায়ের সারাংশ  – যা লিঙ্গীয় ও শ্ৰেণী সম্পৰ্ক এর অর্ন্তভুক্ত,  নৃবিজ্ঞানে, পরিবার প্রসঙ্গটি প্রধানত দুইভাবে দেখা হয়েছে। ব্রনিসলো ম্যালিনোস্কির মতন নৃবিজ্ঞানী পরিবারের আকর বৈশিষ্ট্যকে খুঁজেছেন যাতে প্রমাণ করা যায় যে পরিবার হচ্ছে বিশ্বজনীন।

 

 লিঙ্গীয় ও শ্ৰেণী সম্পৰ্ক অধ্যায়ের সারাংশ 

 

এই দৃষ্টিকে বলা যায় নির্যাসকারী, যেহেতু এটি পরিবারের নির্যাস খোঁজে, যে নির্যাস পরিবারকে দান করবে সর্বজনীনতা। সমাজবিজ্ঞানী ট্যালকট পারসন্স পরিবারকে বিচার করেছেন আধুনিকতাবাদী দৃষ্টি থেকে। আধুনিক, শিল্পোন্নত সমাজ হচ্ছে প্রতিষ্ঠান-নির্ভর; অনুন্নত, পিছিয়ে-পড়া সমাজ হচ্ছে জ্ঞাতি-নির্ভর।

 

আমাদের গুগল নিউজে ফলো করুন
আমাদের গুগল নিউজে ফলো করুন

 

জ্ঞাতি ভিত্তিক সংগঠন দ্বারা সম্পাদিত কার্যাবলী, সমাজের উন্নতির সাথে সাথে হস্তান্তরিত হয়ে যায়। আধুনিক সমাজে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারী দপ্তর, সামরিক বাহিনীর মত প্রতিষ্ঠান জ্ঞাতিকুলের পরিবর্তে প্রয়োজনীয় কার্য সম্পাদন করে। শ্রেণীর প্রসঙ্গটি নৃবিজ্ঞানে উপেক্ষিত হয়েছে বহু বছর ধরে। বর্তমানে এটি, পুঁজিবাদের বিস্তারের কারণে, এবং পূর্ব ইউরোপীয় দেশগুলোতে সমাজতন্ত্রের ভাঙ্গনের কারণে, নৃবিজ্ঞানের একটি কেন্দ্রীয় বিষয় হয়ে উঠেছে। সমাজতান্ত্রিক নারীবাদীরা এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ তাত্ত্বিক অবদান রেখেছেন ।

 

আরও দেখুনঃ

Leave a Comment