আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় রোমান সভ্যতার ইতিহাস। ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রেই সম্ভবত রোমানদের অবদান সবচেয়ে বেশি। তিনজন বিখ্যাত রোামন ঐতিহাসিক ছিলেন লিভি, ট্যাসিটাস ও প্লুটার্ক। এ তিনজনের মধ্যে লিভির (খ্রিঃ পূঃ ৫৯-১৭ খৃঃ)) নামই সমধিক প্রসিদ্ধ। ভার্জিলের সমসাময়িক লিভি ভার্জিলের মহাকাব্যের মতোই বিখ্যাত ইতিহাসগ্রন্থ ‘রোমের ইতিহাস’ রচনা করেন।
রোমান সভ্যতার ইতিহাস
রোমান সভ্যতার ইতিহাস
রোমের বিজয় ইতিহাস ও গৌরবময় কৃতিত্বের বিস্তৃত বিবরণ লিপিবদ্ধ করা হয়েছে এব ইতিহাসগ্রন্থে। কিন্তু গ্রীক ঐতিহাসিক থুকিডাইডিসের মতো বস্তুনিষ্ঠ ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় লিভি দিতে পারেন নি তাঁর গ্রন্থে। লিভির মতো বিশদ ইতিহাস রচনা না করলেও ঐতিহাসিক ট্যাসিটাস (৫৫-১১৭ খ্রিঃ) তাঁর বিখ্যাত জার্মানিয়া (Germania) গ্রন্থে জার্মান জাতির সরল ও অনাড়ম্বর সমাজ ও জীবনের বিরবণ দেন।
পাশাপাশি রোমান সমাজের, বিশেষ করে উঁচু শ্রেণীর জনগণের কলুষময় জীবনচিত্র তুলে ধরে তিনি উভয়ের তুলনামূলক সমালোচনা করেন। তাঁর অপর এক গ্রন্থ ‘ঐতিহাসিক বিবরণী’ Annals-এ সম্রাট অগাস্টাস থেকে নীরো পর্যন্ত সময়ের ইতিহাস লিপিবদ্ধ করে রোমান সম্রাটগণ ও তাঁদের অমাত্যবর্গের দোষ-ত্রুটির বিশদ বিবরণ দেন। তাঁর মতামত অধিকাংশ ক্ষেত্রেই যদিও পক্ষপাতদোষে দুষ্ট, তথাপি সমকালীন ইতিহাসের একটি সুস্পষ্ট চিত্র এতে প্রতিফলিত হয়েছে।
রোমের আরেকজন বিখ্যাত ঐতিহাসিক হলেন পুটার্ক (৪৬-১২০? খ্রিস্টাব্দ ১। সরকারি চাকরিতে কর্তব্য রত প্লুটার্ক তাঁর জীবনের অধিকাংশ সময় গ্রীক ও রোমান যুগের বিখ্যাত চরিত্রগুলির বিবরণ সংগ্রহের কাজে ব্যয় করেছেন।
তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ (The Parallel Lives)-তে চল্লিশজন প্রসদ্ধি রোমান ও গ্রীক নায়কদের জীবনচরিত্র লিপিবদ্ধ করেন। পরবর্তীকালে শেক্সপীয়র তাঁর ‘জুলিয়াস সীজার’ এবং ‘এন্টনি অ্যান্ড ক্লিওপেট্রা’ গ্রন্থের বহু তথ্য প্লুটার্ক-এর ইতিহাস থেকেই নেন।
রোমান সভ্যতার শিল্পকলা:
রোমের শিল্পকলা গড়ে উঠেছিল প্রধানত গ্রীকদের অনুকরণের মাধ্যমে। রোমানদের শিল্পকলার প্রকাশ ঘটেছিল স্থাপত্য, ভাস্কর্য ও চিত্রশিল্পে। ভাস্কর্য ও চিত্রাঙ্কনের ক্ষেত্রে, বিশেষত মানুষের মূর্তি ও চিত্রের ক্ষেত্রে, রোমানরা এটুস্কান রীতি দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল, যদিও গ্রীক প্রভাবও এ ক্ষেত্রে কার্যকর ছিল। গ্রীক ভাস্কর্যে প্রধানত আদর্শ মানবমূর্তির প্রকাশ ঘটত। আর রোমানরা এটুস্কানদের মতো বাস্তবসম্মত মূর্তি ও চিত্র নির্মাণ করত।
রোমানরা স্মারক স্তম্ভে এবং দেওয়ালের গায়ে নির্মিত ভাস্কর্যে ঐতিহাসিক ঘটনাবলীর সুন্দর চিত্র নির্মাণ ও অঙ্কন করত। শিল্পকলার ক্ষেত্রে রোমানদের বিশেষ কৃতিত্বের প্রকাশ অবশ্য স্থাপত্য শিল্পেই ঘটেছিল। বিরাটাকৃতির অট্টালিকা ও নানাবিধ সৌধনির্মাণে শিল্পীর স্বাধীনতা ও শিল্পবোধের পরিবর্তে তাদের ক্ষমতা ও প্রতিপত্তির পরিচয়ই বেশি পাওয়া যায়।
অধিকাংশ স্থাপত্যশিল্পে খিলান ও গম্বুজের ব্যবহার দেখা যায়। সাধারণত ইট, পাথর ও কংক্রিটের সাহায্যেই এগুলি নির্মাণ করা হয়েছিল। ইমারতগুলি বিশেষ প্রয়োজনে নির্মিত হয়। সরকারি ভবনসমূহ, থিয়েটার, সার্বজনীন স্নানাগার, ঘোড়দৌড়ের স্থান ইত্যাদি নির্মাণ করা হয়েছিল অধিক পরিমাণে।
রোম নগরীর দুটি প্রধান ইমারতের মধ্যে একটি হল প্যানথিওন নামক মন্দির—১৪২ ফুট ব্যাসবিশিষ্ট গম্বুজ যার প্রধান অলঙ্কার; এবং অন্যটি হল ৬৫ হাজার দর্শকের স্থানসম্বলিত ‘কলোসিয়াম’ নামক রঙ্গমঞ্চ বা এ্যাম্ফিথিয়েটার। এ রকম রঙ্গমঞ্চ অবশ্য রোমান সাম্রাজ্যের সর্বত্রই আরও ছিল।
আরও দেখুন :

