আজকের আলোচনার বিষয় রাখাইন জনগোষ্ঠীর ইতিহাস – যা রাখাইন জনগোষ্ঠী এর অর্ন্তভুক্ত, বলা হয়ে থাকে রাখাইনরা দুইশতাধিক বছর আগে আরাকান থেকে এদেশে এসে বসতি স্থাপন করেছিল। রাখাইনরা নিজেরাও তাই মনে করেন। তবে এক্ষেত্রে এটাও লক্ষ্য রাখা দরকার যে, চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিভিন্ন সময়ে আরাকানী শাসন বা প্রভাব ছিল (চট্টগ্রামে মুগল শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে এ অঞ্চল কখনো কখনো ত্রিপুরা রাজ্যের মাণিক্য রাজাদের শাসনাধীনেও ছিল)।
কাজেই রাখাইনদের অভিবাসনের যে সময়কালের কথা সচরাচর বলা হয়, তার বেশ আগে থেকেই তাদের পূর্বসূরীদের অনেকে বর্তমান কক্সবাজার-রামু-টেকনাফ প্রভৃতি অঞ্চলে ছিল বলে অনুমান করা যায়। তবে পটুয়াখালী অঞ্চলে রাখাইন বসতি গড়ে ওঠার সময়কাল হিসাবে কোন কোন প্রকাশিত বিবরণে ষোড়শ সপ্তদশ শতাব্দীর কথা উল্লেখ করা হলেও এর পক্ষে সুনির্দিষ্ট ঐতিহাসিক প্রমাণ নেই।
রাখাইন জনগোষ্ঠীর ইতিহাস

প্রাপ্ত ঐতিহাসিক তথ্য অনুসারে পটুয়াখালী অঞ্চলে রাখাইন বসতি গড়ে উঠেছিল অষ্টাদশ শতকের শেষার্ধে। তবে সংশ্লিষ্টদের অনেকে চট্টগ্রাম ও রামু অঞ্চল থেকে পটুয়াখালী অঞ্চলে এসেছিল। অবশ্য ওই সময় বার্মা কর্তৃক আরাকান আক্রান্ত হওয়ায় আরকান থেকে অনেক শরণার্থী চট্টগ্রামের দক্ষিণাঞ্চলে প্রথমে আশ্রয় নিয়েছিল।

পটুয়াখালী অঞ্চলে এদেরই অনেকে পুনর্বাসিত হয় বলে ধারণা করা হয়। অন্যদিকে ১৭৮৪ সালে ১৫০ পরিবার নিয়ে গঠিত রাখাইনদের একটি বড়সড় দল ৫০টি নৌযানে বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে সরাসরি আরাকান থেকে বর্তমান গলাচিপা থানার অন্তর্গত রাঙাবালি দ্বীপে এসে বসতি গড়েছিল, এমন বিবরণও পাওয়া যায়।
বর্তমান কক্সবাজার-পটুয়াখালী-বরগুনা অঞ্চলসমূহে যেভাবেই রাখাইনদের প্রথম আগমন ঘটে থাকুক না কেন, উপকূলীয় বনাঞ্চলের অনেক স্থানকে আবাদী ভূমিতে রূপান্তরিত করার ক্ষেত্রে নিঃসন্দেহে তারাই অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিল। পটুয়াখালী অঞ্চলে বনভূমি পরিষ্কার করিয়ে চাষাবাদের সূচনা ঘটানোর লক্ষ্যে ব্রিটিশ সরকার রাখাইনদের ভূমি বন্দোবস্তি দানের ব্যবস্থা নিয়েছিল।

এ লক্ষ্যে সেখানে ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের একজন বিশেষ কর্মকর্তাও নিযুক্ত ছিল, তবে পাকিস্তান আমলে এই পদ বিলুপ্ত করা হয়। রাখাইনদের দৃষ্টিতে এই পদক্ষেপ তাদেরকে নিজেদের হাতে গড়ে তোলা আবাদী ভূমি থেকে ধীরে ধীরে উচ্ছেদের পথ প্রশস্ত করে দিয়েছিল। বাস্তবেও বিভিন্ন কারণে পাকিস্তান আমলে এদেশে রাখাইনদের সংখ্যা কমতে শুরু করেছিল বলে জানা যায়, তাদের অনেকে নানান্ প্রতিকূলতার মুখে দেশান্তরী হতে বাধ্য হয়। এই প্রক্রিয়া এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয় নি বলেই প্রতীয়মান হয়।
আরও দেখুনঃ
