আজকের আলোচনার বিষয় পরিবারের উৎপত্তি এবং বিকাশ সম্পর্কিত তত্ত্ব – যা পরিবারের উৎপত্তি এবং বিকাশ তত্ত্ব এর অর্ন্তভুক্ত, এই পাঠের প্রথমে যে কেন্দ্রীয় প্রশ্নটি উত্থাপিত হয়েছিল, আমরা তাতে ফিরে যাই। পরিবারের কি ইতিহাস আছে? ফ্রাইডরিক এঙ্গেলস (১৮২০-১৮৯৫; সমাজতান্ত্রিক এবং বিপ্লবী কার্ল মার্ক্সের সহযোগী, তিনি নিজেও বিপ্লবী ছিলেন আর ছিলেন মার্ক্সবাদী তাত্ত্বিক) এ প্রসঙ্গে ইউরোপীয়দের উদ্দেশ্য করে বলেন, “আপনারা ভাবেন, পরিবারের ক্ষেত্রে কোন ঐতিহাসিক বিকাশ ঘটেনি। আপনারা ধরে নেন যে, খ্রিস্টীয় ধর্মগ্রন্থে পিতৃ প্রধান পরিবারের যে রূপ অঙ্কিত, সেটা সঠিক এবং সত্য।”
এঙ্গেলসের লক্ষ্য ছিল, পরিবার যে একটি ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠান (এর অতীত এবং বর্তমান আছে, এর বদল ঘটে, এটা বদলযোগ্য), তা যুক্তিসহকারে প্রমাণ করা। ঊনবিংশ শতকের শেষার্ধে, ইংল্যান্ডে পরিবার নিয়ে বিশাল বিতর্ক চলছিল। বিতর্কের কেন্দ্রে ছিল এমন ধরনের বিষয়: সমাজ গঠনে পরিবারের ভূমিকা কি? পিতৃতান্ত্রিক পরিবার কি বিশ্বব্যাপী? এই বিতর্কে প্রবল ধারার প্রতিনিধিত্ব করেন মেইন। ইংরেজ এই আইনজ্ঞের পুরো নাম হেনরি জেমস সামনার মেইন (১৮২২-১৮৮৮)। তিনি এনশিয়েন্ট ল’ (১৮৬১) গ্রন্থের লেখক এবং গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক তাত্ত্বিক হিসেবে বিবেচিত। মেইনের বক্তব্য ছিল, আদিযুগে মানব সমাজ বলতে বোঝাত পিতৃতান্ত্রিক পরিবার। পিতৃতান্ত্রিক পরিবার সকল সমাজে উপস্থিত।
পরিবারের উৎপত্তি এবং বিকাশ সম্পর্কিত তত্ত্ব
বাকোফেন এবং মর্গান, মেইনের এই বক্তব্যের বিরোধিতা করেন। মেইনের মতন য়োহানেস য়াকব বাকোফেন (১৮১৫-১৮৫৭)-ও ছিলেন আইনজীবী। সুইটজারল্যান্ডের এই অধিবাসী প্রাচীন গ্রীস ও রোমের সাহিত্যের পন্ডিত ছিলেন। তিনি মিথ, রিলিজিআন এ্যান্ড মাদার-রাইট (১৮৬১)-এর রচয়িতা। প্রাচীনকালের পুরাণে আগ্রহ থেকে তিনি জ্ঞাতি ব্যবস্থার বিবর্তনের প্রতি ঝুঁকে পড়েন। তাঁর মতে, আদি যুগের বৈশিষ্ট্য ছিল বাছ-বিচারহীন যৌন সম্ভোগ। একে তিনি মাতৃতন্ত্র (matriarchy) অথবা মাতৃ- অধিকার (mother right) হিসেবে চিহ্নিত করেন। বাকোফেন বলেন, আদি যুগের এই ব্যবস্থা পরিবর্তিত হয়। তার স্থলে গড়ে উঠে পিতৃসূত্রীয় (patrilineal) অথবা পিতৃ-অধিকার ব্যবস্থা। পরিবর্তনের মূল কারণ ছিল ব্যক্তি মালিকানা ব্যবস্থার উদ্ভব এবং পুরুষদের নিজ সন্তানের জন্য সম্পত্তি রেখে যাওয়ার প্রবণতা ।
এই বক্তব্যের সমর্থন মেলে লুইস হেনরী মর্গান (১৮১৮-১৮৮১)-এর কাজে। তিনিও ছিলেন আইনজীবী। মর্গান বহু গুরুত্বপূর্ণ বইয়ের লেখক: লীগ অফ দ্য ইরোকওয়া (১৮৫১), সিষ্টেমস অফ কনস্যাঙ্গুইনিটি এ্যান্ড এফফিনিটি (১৮৭১) এবং এনশিয়েন্ট সোসাইটি (১৮৭৭) । মর্গান তার কাজে, মন্টেস্ক্যু’র উদ্ভাবিত যুগ-বিভাগের শ্রেণীকরণ ব্যবহার করেন: আদিম বা বন্য যুগ (শিকারী-সংগ্রহকারী), বর্বর যুগ (কৃষি-ভিত্তিক) এবং সভ্যতা (জটিল, বিশেষায়িত সমাজ) (Charles Louis de Secondat Montesquieu, L’espirit des Lois, 1748)। মন্টেস্ক্যুর প্রথম দুটি শ্রেণীকে মর্গান তিনটি পর্যায়ে ভাগ করেন – নিম্ন, মধ্য, উচ্চ।
বাকোফেনের মতনই, মর্গানও মনে করেন, মানব সভ্যতার আদিযুগে ছিল নির্বিচার যৌন সম্ভোগ। তারপর, ক্রমান্বয়ে এই আদি অবস্থার পরিবর্তন ঘটে। দেখা দেয়: একরক্ত সম্পর্কের পরিবার। এটি পরিবারের প্রথম স্তর। এ পর্যায়ে, বিবাহের দলগুলি বিভিন্ন প্রজন্মে বিভাজিত হয়ে পড়ে। পরিবারের গন্ডির মধ্যে সমস্ত দাদা-দাদীরা পরস্পরের স্বামী-স্ত্রী, তাদের সন্তানেরা (অর্থাৎ, বাবা-মা প্রজন্ম) পরস্পরের স্বামী-স্ত্রী। তাদের সন্তানেরা অর্থাৎ, ফুপাত, চাচাত, মামাত, খালাত ভাই- বোন এবং নিজ ভাই-বোনেরা পরস্পরের স্বামী-স্ত্রী। পরিবারের এই স্তরে মাতা-পিতার সাথে যৌন সম্পর্ক নিষিদ্ধ হয়ে উঠলেও ভাই-বোন সম্পর্কের মধ্যে যৌন সম্পর্ক প্রচলিত ছিল। পলিনেশীয় এবং হাওয়াই- এর সমাজে এই রীতির প্রচলন ছিলো বলে মর্গান দাবি করেন।
দ্বিতীয় স্তরে, পুনালুয়া পরিবার গঠিত হয়। ভাই-বোনদের যৌন সম্পর্ক নিষিদ্ধ হয়ে পড়ে। বিয়ে হয় প্রথম, দ্বিতীয় বা তারও অধিক দূরত্বের কাজিন বোনদের সাথে এমন এক দল পুরুষের যারা একইভাবে রক্ত-সম্পর্কিত। পুনালুয়া শব্দটির অর্থ হল, “ঘনিষ্ট সাথী” এবং পুরুষেরা পরস্পর পরস্পরকে এই নামে সম্বোধন করেন। স্ত্রীরাও একে অপরের পুনালুয়া।
পুনালুয়া পরিবার থেকে গোত্র সংগঠনের উৎপত্তি হয়েছে বলে মর্গান ধারণা করেছিলেন। যদিও সমগ্র পরিবারের সমস্ত সন্তান সন্তুতিদের একজন নারী নিজ সন্তান বলে সম্ভাষণ করেন, এ সত্ত্বেও নিজের পেটের ছেলে-মেয়েদের তিনি আলাদা করতে পারেন। যেহেতু এ পর্যায়ে একমাত্র মায়ের দিক দিয়ে বংশপরম্পরা নিশ্চিতভাবে জানা যায় সেকারণেই মাতৃধারা স্বীকৃত হয়। আদি মাতার বংশজাত কন্যাসন্তান এবং তাদের সন্তানসন্ততি মিলে গঠিত হয় আদি গোত্র। যখন সমস্ত ভাই-বোনদের, এমনকি মায়ের দিক দিয়ে দূর সম্পর্কের সমান্তরাল ভাই-বোনদের মধ্যে পর্যন্ত যৌন সম্পর্ক নিষিদ্ধ হয় তখনই উপরুক্ত গোষ্ঠী রূপান্তরিত হয় গোত্রে।
অর্থাৎ, মায়ের দিক দিয়ে রক্ত সম্পর্কিত আত্মীয়ের একটি সুনির্দিষ্ট গোষ্ঠী গড়ে ওঠে যাদের মধ্যে বিয়ে অনুমোদিত নয়। পুনালুয়া পরিবার থেকেই গোত্রের উদ্ভব। মর্গানের মতে, ইউরোপ, এশিয়া এবং আমেরিকায় পুনালুয়া পরিবারের প্রচলন ছিলো সুদূর অতীতে; পলিনেশিয়ায় এর প্রচলন উনবিংশ শতক পর্যন্ত ছিল।
সমষ্টি-বিবাহের সময়কালে অথবা তারও পরে কমবেশি সময়ের জন্য জোড়বাঁধা পরিবার দেখা দেয়। এটি হচ্ছে তৃতীয় স্তর। বহু পত্নীর মধ্যেও একজন পুরুষের একজন প্রধান পত্নী থাকে। এই পুরুষটি আবার তার প্রধান পত্নীর বহু পতিদের মধ্যে প্রধান। দুই পক্ষের যে কোন পক্ষ সহজেই এই বিয়ে ভেঙ্গে দিতে পারে।
বিয়ে ভেঙ্গে গেলে, সন্তান-সন্ততিরা আগের মত কেবল মায়ের অধিকারভুক্ত। বন্য অবস্থা ও বর্বরতার সীমারেখায় জোড়বাঁধা পরিবার দেখা দেয়। মর্গান দাবি করেন যে, যখন আমেরিকান আদিবাসীরা আবিষ্কৃত হয় তখন তাদের উত্তরণ ঘটে এবং তারা জোড়বাঁধা পরিবার গঠন শুরু করেন। বর্বরতার মধ্যবর্তী স্তর থেকে উচ্চতর স্তরে উৎক্রমণ যুগে জোড়বাঁধা পরিবার থেকে চতুর্থ এবং বর্তমানে প্রচলিত একপতিপত্নী পরিবারের উৎপত্তি। ধরে নেয়া হয় এই পরিবার ব্যবস্থা সভ্যতার সূচনার অন্যতম লক্ষণ।
কি কি কারণে বিয়ে ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটে? মর্গানের বক্তব্য ছিল, জীবন-ধারণের সামগ্রী লাভ করার যে কলাকৌশল, তাতে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন আহার ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনে। এই পরিবর্তনের ফলে, বিয়ে এবং পরিবার, ও রাজনৈতিক সংগঠনে অনুরূপ পরিবর্তন ঘটে। এঙ্গেলস যে মর্গানের কাজে উদ্বুদ্ধ হন সেটা তাঁর লেখা পরিবার, ব্যক্তিগত মালিকানা ও রাষ্ট্রের উৎপত্তি (১৮৮৪) পড়লেই বোঝা যায়। মর্গানের তথ্যসম্ভার আর প্রধান বক্তব্য গ্রহণ করে এঙ্গেলস শ্রেণী এবং লিঙ্গীয় বৈষম্যের উৎপত্তির প্রসঙ্গটিকে কেন্দ্রে নিয়ে আসেন।
এঙ্গেলস বলেন, যাযাবর জীবন ছেড়ে নির্দিষ্ট স্থানে স্থায়ী বসবাসের প্রক্রিয়া আরম্ভ হয় যখন উৎপাদনের শক্তি – প্রধানত যন্ত্রপাতি – আবিষ্কার হয়। তীর-ধনুক, কাঠের – পাত্র, বেতের ঝুড়ি, পাথরের যন্ত্রপাতি, বাড়িঘর তৈরী যাযাবর জীবনকে করে তোলে অনাবশ্যক। কুড়াল ও কোদালের মতন লৌহ যন্ত্রপাতি আবিষ্কার, বনজঙ্গল সাফ করে বসতি স্থাপনের সম্ভাবনা তৈরী করে; পশু-পালন এবং চাষ-বাসের উদ্ভব ঘটে। অরণ্যে বসবাস থামিয়ে মানুষ সমতল ভুমিতে বসবাস আরম্ভ করে।
উৎপাদনের বিকাশের এই পর্যায়ে, এঙ্গেলস বলেন, “মাতৃ-অধিকার” প্রচলিত ছিল। সন্তান কোন বংশের তা নির্ধারিত হত তার মায়ের মাধ্যমে। একত্রে বসবাসের রীতি ছিলো মাতৃস্থানিক, পিতৃস্থানিক নয়। শ্রম বিকাশের এই পর্যায়ে গৃহস্থালীর সকল নারী ছিলেন একই গোত্রের, আর পুরুষেরা ছিলেন ভিন্ন-ভিন্ন গোত্রের।
উৎপাদনের ক্ষেত্রে নতুন নতুন আবিষ্কারের ফলে মাতৃ-অধিকার ব্যবস্থার উচ্ছেদ ঘটে। পশু- পালন, লৌহকর্ম, কাপড় বোনা, এবং কৃষিকাজ সম্ভব করে তোলে এমন সম্পদের সৃষ্টি যা অব্যবহৃত থেকে যায়। উদ্বৃত্ত পুরুষের কর্ম পরিসরে তৈরি হওয়াতে, এর মালিকানা হয়ে ওঠে পুরুষের। বিকশিত উৎপাদনের শক্তি এবং মাতৃ-অধিকার ভিত্তিক পারিবারিক ব্যবস্থা – এ দুয়ের মধ্যে বৈপরীত্য তৈরি হয়। – মাতৃ-অধিকার ভিত্তিক ব্যবস্থার উচ্ছেদ ঘটে, এর স্থলে গড়ে উঠে পিতৃ-অধিকার ব্যবস্থা। এই নতুন ব্যবস্থায় সম্পদ প্রবাহিত হয় পিতার মাধ্যমে, মাতার মাধ্যমে নয়। এই পরিবর্তন, এঙ্গেলসের মতে, নারী অধস্তনতার সূত্রপাত ঘটায়। নারী হয়ে উঠে সন্তান উৎপাদনের একটি উপায় মাত্র।
পরিবারের উৎপত্তি এবং বিকাশ তত্ত্বের ভূমিকা:
আজকের আলোচনার বিষয় পরিবারের উৎপত্তি এবং বিকাশ তত্ত্বের ভূমিকা – যা পরিবারের উৎপত্তি এবং বিকাশ তত্ত্ব এর অর্ন্তভুক্ত, পরিবারের উৎপত্তি এবং বিকাশ সম্পর্কিত এই পাঠে আমরা একটি কেন্দ্রীয় প্রসঙ্গের মুখোমুখি হব । কেন্দ্রীয় এই প্রসঙ্গটিকে ছোট-ছোট একাধিক প্রশ্নের মাধ্যমে উত্থাপন করা যায়। যেমন: পরিবার কি অপরিবর্তনীয় কিছু, নাকি রূপান্তরশীল? অর্থাৎ পরিবারের কি ইতিহাস আছে? যদি পরিবার রূপান্তরশীল হয়ে থাকে, তাহলে এই রূপান্তর -প্রক্রিয়া আমরা কিভাবে বুঝব? কোন্ তত্ত্বের সাহায্যে?
পরিবারের উৎপত্তি এবং বিকাশ তত্ত্বের ভূমিকা
ঊনবিংশ শতকের চিন্তাবিদরা এ ধরনের প্রশ্ন দাঁড় করিয়েছিলেন। সেই শতক ছিল বিবর্তনবাদী তত্ত্বের স্বর্ণযুগ। আরো ছিল, স্বতন্ত্র জ্ঞানকান্ড হিসেবে নৃবিজ্ঞানের গড়ে ওঠার সময়কাল। পরিবার, বিয়ে – এসব – বিষয় নিয়ে লেখালেখি করেছিলেন এবং তত্ত্ব দাঁড় করিয়েছিলেন এমন সব লেখক ও তাত্ত্বিক যাঁরা কিনা নৃবিজ্ঞানী ছিলেন না। ধরুন মর্গান, কিংবা মেইন।
দুজনই ছিলেন আইনজীবী। কিন্তু, তা সত্ত্বেও নৃবিজ্ঞানীদের জন্য তাঁদের কাজ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তার কারণ, এই সময়কালে জ্ঞাতিত্ব নৃবিজ্ঞানীদের কেন্দ্রীয় বিষয় হিসেবে চিহ্নিত হয়। পরবর্তী প্রজন্মের পেশাজীবী নৃবিজ্ঞানীরা, অর্থাৎ, ঊনবিংশ শতকের শেষ ভাগ এবং বিংশ শতকের শুরুর দশকের নৃবিজ্ঞানীরা, নিজেদের চিন্তাভাবনা ও তত্ত্ব দাঁড় করান এই বিবর্তনবাদীদের কাজের প্রেক্ষিতে। অনেক ক্ষেত্রেই তাঁরা বিবর্তনবাদী চিন্তার বিরোধিতা করেন। আবার, কিছু নৃবিজ্ঞানী বিবর্তনবাদী ধারায় কাজ অব্যাহত রাখেন। বিংশ শতকের প্রবল ধারার নৃবিজ্ঞান অনেকের মতে ছিল, বিবর্তনবাদ-বিরোধী।
এই পাঠে প্রথমে বিবর্তনবাদ কি, তা সংক্ষেপে আলোচনা করা হবে। এই আলোচনা প্রসঙ্গে আমরা দেখব কিভাবে জৈবিক বিবর্তনের ধারা সামাজিক বিজ্ঞানে আমদানি করা হয়, ব্যবহার করা হয়। যে দৃষ্টিভঙ্গি দাবি করে যে সমাজ এবং সামাজিক প্রতিষ্ঠানাদির (যেমন পরিবার, বিবাহ) পরিবর্তন বিবর্তনের ধারণার মাধ্যমে বোঝা সম্ভব, সেটিকে সামাজিক-সাংস্কৃতিক বিবর্তন বলা হয়। দ্বিতীয়ত, পরিবারের উৎপত্তি এবং বিকাশ-সম্পর্কিত তাত্ত্বিকদের কাজের সাথে আপনার পরিচয় ঘটানো হবে: বাকোফেন, মেইন, ম্যাকলেনান, মর্গান এবং এঙ্গেলস। তৃতীয়ত, বিবর্তনবাদের সমালোচনা এবং নারীবাদীদের কাছে এঙ্গেলসের গুরুত্ব আলোচিত হবে।
পরিবারের উৎপত্তি এবং বিকাশ সম্পর্কিত তত্ত্ব অধ্যায়ের সারাংশ:
আজকের আলোচনার বিষয় পরিবারের উৎপত্তি এবং বিকাশ সম্পর্কিত -তত্ত্ব অধ্যায়ের সারাংশ – যা পরিবারের উৎপত্তি এবং বিকাশ তত্ত্ব এর অর্ন্তভুক্ত, সামাজিক-সাংস্কৃতিক বিবর্তনবাদী চিন্তা অনুসারে সমাজের গঠন হচ্ছে প্রাণীর মতন: এর আছে অঙ্গ- প্রত্যঙ্গ।
বিবর্তনের মধ্য দিয়ে সরল আকৃতির সমাজ হয়ে ওঠে জটিল এবং পৃথকীকৃত। বিবর্তনবাদী ভাবনাচিন্তা সামাজিক প্রতিষ্ঠান, আচার-অনুষ্ঠানের উদ্ভব খোঁজার প্রেরণা যোগায় কয়েক প্রজন্মের নৃবিজ্ঞানীদের। ঊনবিংশ শতকের ইংল্যান্ডে পরিবারের আদি ধরন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। নৃবিজ্ঞানী হিসেবে বর্তমানে যারা স্বীকৃত (যেমন আইনজীবী বাকোফেন, মর্গান প্রমুখ) তাঁরা এতে অংশগ্রহণ করেন। তাঁরা পরিবারের উদ্ভবের অনুসন্ধান চালান।
এদের মধ্যে মর্গানের তত্ত্ব বহুল পরিচিত। পরবর্তী পর্যায়ে, এঙ্গেলস মর্গানের তত্ত্বের লুক্কায়িত বিষয়গুলোকে কেন্দ্রে নিয়ে আসেন। উৎপাদন পদ্ধতি, শ্রম- বিভাজন এবং লিঙ্গীয় বৈষম্য ঐতিহাসিক ভাবে আন্তঃসম্পর্কিত – এই বক্তব্য স্পষ্ট করে তোলেন। গুরুত্বপূর্ণ সমালোচনা সত্ত্বেও নারীবাদীরা এঙ্গেলসের কাছে ঋণী কারণ তিনি নারী অধস্ততার সামাজিক কারণ অনুসন্ধানের চেষ্টা চালান ।
আরও দেখুনঃ
