বাংলাদেশের সাঁওতালদের বর্তমান আর্থ-সামাজিক অবস্থা

আজকের আলোচনার বিষয় বাংলাদেশের সাঁওতালদের বর্তমান আর্থ-সামাজিক অবস্থা – যা সাঁওতাল জনগোষ্ঠী এর অর্ন্তভুক্ত, বাংলাদেশের সাঁওতালরা অধিকাংশই দরিদ্র এবং শিক্ষাবঞ্চিত। তাদের মধ্যে সাক্ষরতার হার সম্ভবতঃ ১০%-এর বেশী হবে না। তবে বিদ্যমান আর্থসামাজিক দুরবস্থা কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্যে সাঁওতাল ও তাদের প্রতিবেশী অন্যান্য আদিবাসীরা তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠিত হচ্ছে, এমন প্রমাণ পাওয়া যায়।

বাংলাদেশের সাঁওতালদের বর্তমান আর্থ-সামাজিক অবস্থা

 

বাংলাদেশের সাঁওতালদের বর্তমান আর্থ-সামাজিক অবস্থা

যেমন, বেসরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় বর্তমানে ‘সাঁওতাল স্কুল’ পরিচালিত হচ্ছে, যে উদ্যোগের সাথে সাঁওতালরা নিজেরাও প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। অবশ্য মিশনারীদের থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায়ের একাধিক রাজনৈতিক দল ও বেশ কিছু বেসরকারী উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন সময়ে তাদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়ালেও ‘ডিকু’দের প্রতি সাঁওতালদের ঐতিহ্যগত অবিশ্বাস কতটা ঘুচে গেছে, তা ততটা স্পষ্ট নয়।

নিজেদের জনগোষ্ঠীর বৃহত্তর অংশ থেকে ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকলেও এদেশের সাঁওতালরা যেসব বিভিন্নমুখী পরিবর্তনের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তা সম্ভবতঃ বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে একাধিক দেশে ছড়িয়ে থাকা সমগ্র সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর বেলায় কমবেশী প্রযোজ্য। যেমন, অর্থনৈতিকভাবে সাঁওতালরা এখন শিকারের উপর আদৌ বা তেমন নির্ভরশীল নয়, যদিও তীর-ধনুকের সাথে তাদের প্রতীকী সংশ্লিষ্টতা এখনো লক্ষ্য করা যায়। একইভাবে গোত্র-সংগঠন থেকে শুরু করে বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানেও বিভিন্ন মাত্রায় পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগা স্বাভাবিক, যদিও বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দুর্লভ।

 

আমাদের গুগল নিউজে ফলো করুন
আমাদের গুগল নিউজে ফলো করুন

 

প্রথাগতভাবে সাঁওতাল সমাজে গ্রাম পঞ্চায়েতের অস্তিত্ব ছিল, যে ব্যবস্থায় ‘মাঝি হাড়াম’ (গ্রাম-প্রধান) থেকে শুরু করে বিভিন্ন পদ রয়েছে। এই ব্যবস্থা বর্তমানে কতটা কার্যকর রয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। সাঁওতালদের সামাজিক সংগঠনের অন্য একটি দিক হচ্ছে গোত্র-সংগঠন। এদেশে সাঁওতালদের বারটি গোত্র রয়েছে বলে জানা যায়, যেগুলির মধ্যে রয়েছে কিন্তু, হাসদা, মুর্মু, হেমব্রম, মারান্ডি, টুডু, সরেন, বাস্কি প্রভৃতি। উল্লেখ্য, এই গোত্র-উপাধিগুলোকে সাঁওতালদের নামের অংশ হিসাবে ব্যবহার করতে দেখা যায়। অবশ্য অবস্থাপন্ন সাঁওতালদের অনেকে বাঙালী হিন্দুদের পদবী তথা আচার-অনুষ্ঠান গ্রহণ করেছে, এমন তথ্য পাওয়া যায়।

অন্যদিকে সাঁওতালদের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ খ্রিস্টান ধৰ্মও গ্রহণ করেছে, যদিও এক্ষেত্রে সাঁওতাল পদবী ত্যাগ করার দৃষ্টান্ত চোখে পড়ে না। বলা বাহুল্য, নিজেদের সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার কতটা কিভাবে তারা ধরে রাখবে, বাইরের কতটুকু কি তারা গ্রহণ বা বর্জন করবে, এসব বিষয়ে ভেবে চিন্তে সাঁওতালরা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নেবে।

 

বাংলাদেশের সাঁওতালদের বর্তমান আর্থ-সামাজিক অবস্থা

 

তারা সরল বা অজ্ঞ, এ ধরনের মূল্যায়নের ভিত্তিতে বাইরের কেউ যদি অভিভাবকসুলভ ভঙ্গীতে তাদের উপর কোন সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে চায়, তবে এমন ব্যক্তি হয়ত ‘ডিকু’র মতই আচরণ করবে। এ প্রসঙ্গে একটা কথাই নিশ্চিতভাবে বলা যায়, অন্যান্য সকল জনগোষ্ঠীর মতই বাংলাদেশের সাঁওতালরাও পরিবর্তনশীল পরিপার্শ্বের সাথে খাপ খাইয়েই চলার চেষ্টা করবে। কাজেই “সাঁওতাল’ জনগোষ্ঠীর কথা শুনলেই স্থির-অনড় কিছু গতানুগতিক চিত্র যদি কারো মানসপটে ভেসে ওঠে, সেগুলো অবশ্যই ঝেড়ে ফেলা দরকার।

আরও দেখুনঃ

Leave a Comment