আজকে আমরা আলোচনা করবো বর্ণবাদের সম্পর্ক নিয়ে । নৃবিজ্ঞানের বিভিন্ন সংজ্ঞার মধ্যে এটিও একটি: নৃবিজ্ঞান হচ্ছে “নরবর্ণ এবং সংস্কৃতির বিজ্ঞান” ( anthropology is the science of race and culture)। ইদানিং কালে অবশ্য এই সংজ্ঞা খুব একটা দেখা যায় না।
বর্ণবাদের সম্পর্ক

নরবর্ণের (race) ভিত্তিতে পৃথিবীর মানুষজনের বর্গীকরণ আরম্ভ করেন ইউরোপীয়রা। এর সূত্রপাত ঘটে চৌদ্দ শতকে, যখন থেকে ইউরোপীয় শক্তির বিশ্বব্যাপী সম্প্রসারণ শুরু। এই পাঠের প্রথম অংশে রয়েছে এর আলোচনা। দ্বিতীয় অংশে, বৈজ্ঞানিক বর্ণবাদ কি, এবং নৃবিজ্ঞানী বোয়াস কি যুক্তিতে এর বিরোধিতা করেন, তা আলোচিত হবে।

ড্যানিয়েল ময়নিহান-এর কাজ হচ্ছে বর্ণবাদী দৃষ্টিতে পরিবার নিয়ে লেখালেখির একটি নমুনা। এটির আলোচনা আছে এই পাঠের তৃতীয় অংশে, এবং এখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৃষ্ণাঙ্গরা কেন গরিব, এ বিষয়ে ময়নিহানের বর্ণবাদী যুক্তি সংক্ষেপে তুলে ধরা হয়েছে। এই অংশে আরো রয়েছে ক্যারল স্ট্যাক-এর কাজ হতে মার্কিনী কৃষ্ণাঙ্গদের পারিবারিক সম্পর্ক নিয়ে কেস স্টাডি। স্ট্যাকের কাজ ময়নিহানের যুক্তি খণ্ডনের একটি শক্তিশালী, বাস্তবসম্মত উত্তর হিসেবে বিবেচিত।

বর্ণবাদের সম্পর্ক অধ্যায়ের সারাংশ:
আজকের আলোচনার বিষয় বর্ণবাদের সম্পর্ক অধ্যায়ের সারাংশ – যা বর্ণবাদের সম্পর্ক এর অর্ন্তভুক্ত, নরবর্ণের ভিত্তিতে পৃথিবীর মানুষজনের বর্গীকরণ ইউরোপীয়রা আরম্ভ করেন। বর্গীকরণের সূত্রপাত এবং ইউরোপীয় শক্তির বিশ্বব্যাপী সম্প্রসারণের সূত্রপাত একই সময়ে ঘটে।

এই কারণে, নরবণীয় বর্গীকরণকে বৈজ্ঞানিক করে তোলার সকল প্রচেষ্টা (যেমন ধরুন আই কিউ পরীক্ষা), এবং সমাজ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দাঁড় করানোর সকল প্রচেষ্টা, সন্দেহের চোখে দেখা হয়। বর্ণবাদী দৃষ্টিভঙ্গির একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে অত্যাচারিতকে দোষারোপ করা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক বিজ্ঞান চর্চায়, বিশেষ করে ১৯৬০-১৯৭০ এর দশকগুলোতে, যখন বর্ণবাদ-বিরোধী আন্দোলন শক্তিশালী হয়, তখন একাধিক বিদ্যাজাগতিক কাজে কৃষ্ণাঙ্গদের দোষারোপ করা হয়।

বলা হয়, তারা নিজেরাই তাদের দুরবস্থার জন্য দায়ী । বর্তমানের নতুন বিশ্ব-ব্যবস্থায়, নতুন নতুন ধরনের স্তরায়িত বর্গীকরণ করা হচ্ছে: যেমন “জঙ্গী আরব” বনাম “সভ্য শেতাঙ্গ”। নৃবিজ্ঞানের একটি ধারার বিবেচনায় এটা নরবর্ণ-ভিত্তিক বর্গীকরণের সাম্প্রতিকতম রূপ ।
আরও দেখুনঃ
