Site icon Anthropology Gurukul [ নৃবিজ্ঞান গুরুকুল ] GOLN

 জ্ঞাতিত্ব পদাবলী

আজকের আলোচনার বিষয় জ্ঞাতিত্ব পদাবলী – যা সামাজিক কাঠামো ও জ্ঞাতিত্ব এর অর্ন্তভুক্ত, নৃবিজ্ঞানীদের, বিশেষ করে নৃবিজ্ঞানের গোড়াপত্তনের সময়কালের নৃবিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল “অনুন্নত” মানুষজনের সামাজিক আচরণ বুঝতে হলে জ্ঞাতিভিত্তিক সম্পর্ক বুঝতে হবে। তাঁদের মতে, প্রতিটি সমাজে জ্ঞাতিকুলকে বিশেষভাবে ভাগ বা শ্রেণীকরণ করা হয়; জ্ঞাতিপদ এই শ্রেণীকরণ ব্যবস্থা বুঝতে সাহায্য করে। এক বা একাধিক শব্দের সাহায্যে জ্ঞাতিপদ গঠিত, এই জ্ঞাতিপদ জ্ঞাতি অবস্থান বা মর্যাদার প্রতীক। একটি সমাজের সকল জ্ঞাতিপদ মিলে তৈরী হয় সেই সমাজের জ্ঞাতিভিত্তিক পদাবলী ব্যবস্থা ।

প্রাথমিককালের নৃবিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল: ঐতিহ্যবাহী সমাজে, মানুষজনের সামাজিক মর্যাদা পাশ্চাত্য মানুষজনের মত অর্জিত না, বরং জন্ম-সূত্রে আরোপিত। অপাশ্চাত্য সমাজের সামাজিক সংগঠনের মূলে রয়েছে জ্ঞাতিসম্পর্ক – এটা তাঁরা ধরে নিয়েছিলেন। তাঁদের মতে, জ্ঞাতিত্ব নির্ধারণ করে দিচ্ছে একজনের সামাজিক মর্যাদা, তার আত্মমর্যাদা বোধ, নির্ধারণ করে দিচ্ছে একজনের প্রতি অপরের কাঙ্ক্ষিত আচরণ, এবং অপরের প্রতি সেই মানুষটির আচরণবিধি। তাঁদের দৃষ্টিতে, পৃথিবীর “আদিম”, “বর্বর” (হাল-আমলের ভাষায়, “অনুন্নত”) সমাজে কি কি ভিত্তিতে জ্ঞাতি শ্রেণীকরণ করা হয়ে থাকে, সেটা অনুসন্ধান করা একান্ত জরুরী। তাঁরা বুঝতে চাইছিলেন জ্ঞাতি শ্রেণীকরণের মূলনীতি।

 জ্ঞাতিত্ব পদাবলী

জ্ঞাতিত্ব অধ্যয়নের এই প্রবল ধারার বিরুদ্ধে সমালোচনা তৈরী হয় ১৯৬০-এর দশক হতে। প্রধান সমালোচক ছিলেন এডমান্ড লীচ, ডেভিড স্লাইডার এবং রবিন ফক্স। লীচ বলেন, জ্ঞাতি-ভিত্তিক সম্পর্ককে নানাভাবে, বিভিন্ন শ্রেণীতে ভাগ করা সম্ভব। কিন্তু এই শ্রেণী-বিভাজনের আদৌ কোন “সামাজিক গুরুত্ব” আছে কিনা তা অস্পষ্ট। নৃবিজ্ঞানীদের এই ধরনের ক্রিয়াকলাপ (জ্ঞাতি পদের শ্রেণীকরণ, জ্ঞাতি সম্পর্কের ভিত্তিতে দুটি বিরুদ্ধ জ্ঞাতিব্যবস্থা চিহ্নিত করা, যেমন ধরুন, মাতৃসূত্রীয় এবং পিতৃসূত্রীয় সমাজ) সামাজিক কাঠামো বুঝতে সাহায্য করে না। এ ধরনের জ্ঞাতিত্ব অধ্যয়নকে লীচ তুলনা করেন “প্রজাপতি” সংগ্রহের সাথে।

লীচের বক্তব্য ছিল, বিভিন্ন ধরনের প্রজাপতি সংগ্রহ করে সেগুলোকে নানাভাবে শ্রেণীকরণ করা সম্ভব (রং, আকার ইত্যাদি) কিন্তু এটি আমাদের প্রজাপতির গঠন বুঝতে বিন্দুমাত্র সহায়তা করে না। জ্ঞাতিত্ব অধ্যয়নকারীরা বিষয়টিকে বিশ্লেষণের একটি পৃথক ক্ষেত্র হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন, এবং তাদের কার্যকলাপ দেখে মনে হয় না যে এই ক্ষেত্র অপরাপর ক্ষেত্র, যেমন, রাজনীতি, অর্থনীতি, ধর্ম – এগুলোর সাথে কোনভাবে সম্পর্কিত।

 

আমাদের গুগল নিউজে ফলো করুন

 

এই জোরালো সমালোচনার পর থেকে, এবং বিশেষ করে ডেভিড শ্রাইভারের মার্কিনী জ্ঞাতিত্ব নিয়ে গবেষণা কাজটি প্রকাশিত হবার পর থেকে, জ্ঞাতিত্ব অধ্যয়নে বড়সড় রদবদল ঘটে। এই রদবদলকে বর্ণনা করা হয়েছে, “ভগ্নাংশ থেকে সামগ্রিক”এর প্রতি দৃষ্টি নিক্ষেপ হিসেবে। জ্ঞাতিত্বকে পুনরায় সংজ্ঞায়িত করা হ’ল সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক পরিসরের অংশ হিসেবে (an aspect of more inclusive social and cultural domains”)| জ্ঞাতিত্বের এই পুনর্সংজ্ঞায়ন জ্ঞাতিত্ব অধ্যয়নকে পুনর্গঠিত করার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে।

এই পাঠটি প্রজাপতি সংগ্রহ ঢং-এর জ্ঞাতিত্ব অধ্যয়নের নমুনা। এতে আছে দুটি প্রধান অংশ। প্রথমত, জ্ঞাতি শ্রেণীকরণের মূলনীতির আলোচনা, এবং দ্বিতীয়ত, জ্ঞাতি পদাবলী ব্যবস্থার শ্রেণীকরণ। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, জ্ঞাতিত্ব অধ্যয়নের এই ঢং-এর সাথে আপনার পরিচিত ঘটানো এবং এর “সম্ভাব্য অর্থহীনতা”র সমালোচনাটি আপনার কাছে স্পষ্ট করা।

 

 

এটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ তা না হলে সাম্প্রতিক জ্ঞাতিত্ব অধ্যয়নের ধারা বোঝা সম্ভব হবে না। তবে, এটা যোগ করা জরুরী যে, প্রজাপতি সংগ্রহ ঢং- এর আরো নমুনা সামনের পাঠগুলোতে পাবেন। এই ধারা এত দীর্ঘকাল ধরে চর্চিত ছিল এবং এতই শক্তিশালী ছিল (এবং কিছু-কিছু বিশ্ববিদ্যালয় এবং নৃবৈজ্ঞানিক মহলে, এখনও আছে) যে এটাকে বাদ দেয়া জ্ঞাতিত্ব অধ্যয়নের ইতিহাসকে অস্বীকার করার সামিল। উপরন্তু, এই ইতিহাস জানা জরুরী কারণ এই প্রেক্ষিত থেকেই সৃষ্ট হয়েছে নতুন ধারার কাজ ।

 

 জ্ঞাতিত্ব পদাবলী অধ্যায়ের সারাংশ:

আজকের আলোচনার বিষয়  জ্ঞাতিত্ব পদাবলী অধ্যায়ের সারাংশ – যা সামাজিক কাঠামো ও জ্ঞাতিত্ব এর অর্ন্তভুক্ত, এই পাঠে জ্ঞাতিত্ব অধ্যয়নের ‘প্রজাপতি সংগ্রহ’ পর্ব তুলে ধরা হয়েছে।

 

 জ্ঞাতিত্ব পদাবলী অধ্যায়ের সারাংশ

 

আমাদের গুগল নিউজে ফলো করুন

 

তবে এই পর্বকে পিছনে ফেলে- আসা-পর্ব হিসেবে দেখলে, ভুল করা হবে। বহু বিশ্ববিদ্যালয় মহলে, বহু প্রকাশনায় এই ধারা অবিকৃত রূপে এখন পর্যন্ত চর্চিত হচ্ছে। এই ধারা সমালোচিত হওয়ার পিছনে প্রধান কারণ ছিল এটি জ্ঞাতিত্বকে দাঁড় করায় স্বতন্ত্র, এবং সমাজের অপরাপর প্রতিষ্ঠান থেকে বিচ্ছিন্ন একটি ক্ষেত্র হিসেবে।  আগামী পাঠগুলোতে দেখবেন যে, নতুন এবং পুনর্গঠিত জ্ঞাতিত্ব অধ্যয়নের কেন্দ্রীয় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে: জ্ঞাতিত্বের অপরাপর প্রতিষ্ঠানের সাথে অন্তপ্রবিষ্টতার উপর গুরুত্ব আরোপ করা, সেটার অনুসন্ধান করা।

 

 

 

আরও দেখুনঃ

Exit mobile version