Site icon Anthropology Gurukul [ নৃবিজ্ঞান গুরুকুল ] GOLN

গ্রীসীয় স্পার্টা

গ্রীসীয় স্পার্টা

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় গ্রীসীয় স্পার্টা। গ্রিসের কেন্দ্রীয় ল্যাকোনীয় সমতলের দক্ষিণে একেবারে শেষভাগে ইউরোটাস নদীর ডান তীরে স্পার্টা নগরী অবস্থিত। একটি পৃথক শহর-স্টেট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত স্পার্টার সৈন্যদের কঠোর অনুশীলন করানো হত। এজন্যই স্পার্টার সেনাদল তৎকালীন গ্রিসের সবচেয়ে দুর্ধর্ষ সেনাদল হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকে।

গ্রীসীয় স্পার্টা

 

গ্রীসীয় স্পার্টা

 

গ্রীসীয় স্পার্টা

গ্রীক নগররাষ্ট্রসমূহের রাজনৈতিক বিকাশের সাধারণ ধারায় স্পার্টার ইতিহাস ছিল এক ব্যতিক্রম। পেলোপনেসাস্-এর দক্ষিণ পূর্বে অবস্থিত ল্যাকোনিয়া প্রদেশে ছিল ‘স্পার্টার’ অবস্থান। স্পার্টা ও ল্যাকোনিয়ার জমি ছিল খুব উর্বর। তার পশ্চিমে অবস্থিত মেসেনিয়ার জমি ছিল চাষাবাদ এবং পশুচারণের পক্ষে আরো বেশি উপযোগী।

স্পার্টা এবং পেলোপনেসাস্-এর প্রাচীনতর অধিবাসী ছিল সম্ভবত একিয়ানগণ । নবাগত বিজয়ী জাতি ডোরিয়ান গ্রীকরা তাদের পরাজিত করে ল্যাকোনিয়ায় বাস স্থাপন করে এবং কালক্রমে স্পার্টান বা স্পার্টাবাসী নামে পরিচিত হয়। গ্রীসের অন্যান্য অঞ্চলে যেমনঙ একিয়ান, ডোরিয়ান ও অন্যান্য জাতির মানুষের সংমিশ্রণে গ্রীসীয় সংস্কৃতির মানুষের সৃষ্টি হয়েছিল, স্পার্টার ক্ষেত্রে তেমন হয়নি।

স্পার্টার বিজয়ী ডোরিয়ানরা পরাজিত একিয়ান কৃষকদের পদানত করে রাখে এবং কার্যত দাসে পরিণত করে। ডোরিয়ান জাতিভুক্ত হলেও স্পার্টানরা তাদের দেশে গ্রীসের অন্যান্য অঞ্চলের মতো গণতান্ত্রিক শাসন পদ্ধতির প্রবর্তন করতে ব্যর্থ হয়েছিল। স্পার্টার প্রচলিত শাসনব্যবস্থা ছিল স্বৈরাচারী একনায়কত্বমূলক।

সংস্কৃতির বিকাশের দিক থেকেও স্পার্টা গ্রীসের অন্যান্য অংশের চেয়ে অনেক পিছিয়ে ছিল। স্পার্টার উত্তর ও পশ্চিমের পর্বতমালা তাকে বহির্জগৎ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছিল এবং তার কোনো ভাল সমুদ্রবন্দর ছিল না। ফলে বাইরের পৃথিবীর উন্নতি থেকে স্পার্টাবাসীরা বিশেষ লাভবান হতে পারেনি। স্পার্টার অর্থনীতি প্রধানত কৃষির উপর নির্ভরশীল ছিল, শিল্পবাণিজ্যের বিশেষ বিকাশ সেখানে ঘটেনি।

স্পার্টার শাসকরা সে দেশে মুদ্রার প্রচলনকে পর্যন্ত বেআইনী করেছিলেন। স্পার্টা ছিল সব রকম প্রগতি ও পরিবর্তনের বিরোধী। হোমারের মহাকাব্য সারা গ্রীক জগতের সংস্কৃতি ও চিন্তাধারাকে গঠিত করলেও স্পার্টায় তার প্রবেশ ঘটেছে সবচেয়ে দেরিতে। স্পার্টার সাংস্কৃতিক পশ্চাৎপদতার এ একটা কারণও বটে, লক্ষণও বটে। স্পার্টার পশ্চাৎপদতার প্রধান কারণ তার সমরবাদী নীতি। স্পার্টানরা পূর্ব পেলোপনেসিয়ায় এসেছিল হানাদার হিসেবে।

কয়েকশো বছর ধরে তাদের যুদ্ধ করতে হয়েছে স্থানীয় মাইসিনীয় (একিয়ান) অধিবাসীদের পরাস্ত করার জন্যে। অবশেষে যখন ৮০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের দিকে তারা সমগ্র ল্যাকোনিয়ার ওপর চূড়ান্তভাবে আধিপত্য বিস্তার করতে সক্ষম হয়, ততদিনে সামরিক অভ্যাস তাদের এমন মজ্জাগত হয়ে গেছে যে, তা আর পরিত্যাগ করা সম্ভব হয়নি। পরাজিত একিয়ানদের তারা অস্ত্রের জোরে দাস বা ভূমিদাস বানিয়ে রাখে। এ দাসদের নাম দেয়া হয় ‘হেলট’।

 

গ্রীসীয় স্পার্টা

 

এ ছাড়া স্পার্টানদের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেলে তারা উপনিবেশ বিস্তার না করে অস্ত্রের বলে প্রতিবেশী রাজ্যসমূহ জয় করে নেয়। এভাবে খ্রিস্টপূর্ব অষ্টম শতাব্দীর শেষ ভাগে স্পার্টানরা মেসেনিয়া অধিকার করে। এর কিছুকাল পরে মেসেনিয়াবাসীরা বিদ্রোহ করলে এক মরণপণ যুদ্ধের সৃষ্টি হয়, তবে স্পার্টানরা শেষ পর্যন্ত অতি কষ্টে জয়লাভে সমর্থ হয়। বিদ্রোহী যোদ্ধাদের একাংশ দেশত্যাগ করে চলে যেতে সক্ষম হয়।

স্পার্টানরা পরাজিত মেসেনিয়াবাসীদের মধ্যে থেকে সমর্থ যুবকদের হত্যা করে এবং অবশিষ্টদের পদানত করে দাসে পরিণত করে। স্পার্টানদের জীবনের সমস্ত দিক তাদের সামরিক প্রয়োজন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হত। শত্রুদের পদানত রাখতে গিয়ে স্পার্টানরা নিজেচরাই বন্দী হয়ে পড়েছিল।

কারণ হেলটদের পদানত রাখাতেই তাদের সমস্ত চিন্তা, কাজ এবং শক্তি নিয়োজিত ছিল, নিজেদের সুপ্রতিষ্ঠিত করার পর থেকে তাদের অস্তিত্বের শেষ দিন পর্যন্ত কয়েক শতাব্দী ফলে নিজেদের স্বাধীন বিকাশের জন্য তারা প্রায় কিছুই করতে পারেনি। স্পার্টা ধরে স্পার্টানরা কেবল পদানত হেলটদের বিদ্রোহের আতঙ্কের মধ্যে কালযাপন করেছে।

এ আতঙ্কের দরুনই স্পার্টানরা সব রকম পরিবর্তনের বিরোধিতা করেছে, পাছে কোনো রকম নতুন চিন্তা বা প্রক্রিয়া তাদের লৌহকঠিন সমাজব্যবস্থায় ফাটল ধরায়। এ একই কারণ তাদের পশ্চাৎপদতা ও কৃষ্টিহীনতার জন্যে দায়ী। বৃহত্তর পৃথিবীর বিপদজ্জনক চিন্তা পাছে তাদের দেশে প্রবেশ করে, এ ভয়ে স্পার্টানরা বিদেশ ভ্রমণ ও বিদেশের সাথে ব্যবসা-বাণিজ্য নিষিদ্ধ করে।

বিপুলসংখ্যক দাস-জনগণের ওপর অল্প সংখ্যক স্বাধীন স্পার্টান নাগরিকদের আধিপত্য বজায় রাখার জন্য লৌহকঠিন শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রণ আরোপ প্রয়োজন হয়েছিল, নিয়ন্ত্রণ প্রচেষ্টার শিকার হয়েছিল স্বাধীন স্পার্টান নাগরিকগণই। গুপ্ত ও প্রকাশ্য চরের সাহায্যে স্পার্টান রাষ্ট্র স্পার্টানদের সমস্ত কার্যকলাপ ও চিন্তাধারা নিয়ন্ত্রণ করত। স্পার্টান নাগরিকরা ছিল শাসকশ্রেণীভুক্ত, তাই তাদের ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য এবং ব্যক্তিস্বাধীনতা খর্ব করে স্পার্টানদের তথাকথিত সার্বজনীন সমাজ সৃষ্টি করা হয়েছিল।

 

আমাদের গুগল নিউজে ফলো করুন

 

এ সার্বজনীন সমাজব্যবস্থা স্পার্টানদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বিস্তৃত ছিল। হেলটদের দমন করার কাজে স্পার্টানদের এ যৌথ বা সার্বজনীন সমাজব্যবস্থা ছিল সবচেয়ে বড় অস্ত্র। আর হেলটদের পদানত রাখার জন্যে স্বভাবতই স্পার্টানরা যে সন্ত্রাস ও ঘৃণার পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল স্পার্টানদের পশ্চাৎপদতার জন্যে তাও অনেকখানি দায়ী।

স্পার্টার নিজস্ব বৈশিষ্ট্যপূর্ণ একটি সংবিধান ছিল। এ সংবিধানে হোমারীয় যুগের অনেক প্রশাসনিক ব্যবস্থা বজায় ছিল। স্পার্টার শাসন পরিচালনা করতেন দু’জন রাজা এবং একটি অভিজাত পরিষদ। এছাড়া নাগরিকদের একটি সাধারণ পরিষদ ছিল, কিন্তু সব স্পার্টানরা এর সদস্য হতে পারত না। কেবল সম্পত্তিবান যোদ্ধাপুরুষরাই এ সাধারণ পরিষদের সদস্য হতে পারত। সাধারণ পরিষদ আভিজাত পরিষদের প্রস্তাব বিবেচনা করত এবং উচ্চ পদসমূহের জন্যে কর্মচারী নির্বাচিত করত।

তবে, স্পার্টা সবচেয়ে বেশি ক্ষমতার অধিকারী ছিল সাধারণ পরিষদ কর্তৃক নির্বাচিত পাঁচ জনের একটি পরিষদ (এফোরেট)। এফোরেট-সদস্য (বা এফোর) এক বছরের জন্যে নির্বাচিত হলেও, তাদের বারবার নির্বাচিত হতে কোনো বাধা ছিল না।

এফোরেট সদস্যরা অভিজাত পরিষদ সাধারণ পরিষদ, শিক্ষাব্যবস্থা, ভূ-সম্পত্তির বন্টনব্যবস্থা, আইন প্রণয়ন ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করতেন, নাগরিকদের জীবনযাত্রার ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখতেন এবং নবজাত শিশুদের ভাগ্য নির্ধারণ করতেন, অর্থাৎ শিশু রুগ্ন হলে তাকে মেরে ফেলার নির্দেশ দিতেন। ল্যাকোনিয়ার মানুষদের তিন শ্রেণীতে ভাগ করা হয়েছিল। প্রথম শ্রেণীতে ছিল স্পার্টানগণ, এরা হল বিজেতা ডোরিয়ানদের বংশধর।

 

গ্রীসীয় স্পার্টা

 

সমস্ত জমির মালিক ছিল স্পার্টানরা, সমস্ত কৃষি জমিকে প্রায় সমান আয়তনের খামারে বিভক্ত করে স্পার্টানদের মধ্যে ভাগ করে দেয়া হয়েছিল। স্পার্টানরা জমির মালিক হলেও চাষের কাজ তারা করত না। জমি চাষ করত ভূমিদাস হেলটরা। একমাত্র স্পার্টানরাই পূর্ণ রাজনৈতিক ও নাগরিক অধিকার ভোগ করত। দ্বিতীয় শ্রেণীতে ছিল বহিরাগত নানা জতির মানুষ। এরাও স্বাধীন ছিল, তবে তাদের কোনো রাজনৈতিক অধিকার ছিল না।

এরা ব্যবসা-বাণিজ্য এবং কারিগরী শিল্পে নিয়োজিত ছিল। তৃতীয় শ্রেণীভুক্ত ছিল ভূমিদাস ও দাস, এদের বলা হত হেলট। এরা হল পরাজিত একিয়ানদের বংশধর। এরা ছিল জমির সাথে গাঁথা। স্পার্টানরা জমির সাথে সাথে কয়েকটি হেলট পরিবারেরও মালিক হত। এ হেলটরাই জমি চাষ করত এবং ফসলের একাংশ লাভ করত। হেলটদের বিন্দুমাত্র স্বাধীনতা বা অধিকার ছিল না। তারা প্রকৃতপক্ষে ছিল দাস এবং তারা ছিল স্পার্টার রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি।

হেলটদের মালিকরা পর্যন্ত তাদের মুক্তি দিতে বা দেশের বাইরে বিক্রি করতে পারত না। এ হেলটদের শ্রমই ছিল সমগ্র স্পার্টার সুখ সম্পদের মূল উৎস। স্পার্টানরাই ছিল স্পার্টার একমাত্র স্বাধীন শ্রেণীর মানুষ, কিন্তু এ শ্রেণীতেও যে শিশুরা জন্মাত তাদের কপালে জীবনের অধিকাংশ সময়ের জন্যে অসম্মানজনক দাসত্ব ছাড়া কিছুই জুটত না। স্পার্টা ছিল একটি যুদ্ধশিবিরের মতো।

এ রাষ্ট্রের যুদ্ধবাজ নীতির স্বার্থে প্রতিটি স্পার্টান নাগরিককে ব্যক্তিগত স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে কঠোর শৃঙ্খলা মেনে চলতে হত। স্পার্টানদের প্রাত্যহিক জীবনযাত্রা ও রীতিনীতির একমাত্র লক্ষ ছিল সামরিক প্রশিক্ষণ। শিশুর জন্ম হলে পিতা তাকে কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থিত করতেন। শিশু স্বাস্থ্যবান বিবেচিত হলে তাকে একখণ্ড জমি প্রদান করা হত এবং শিশুকে প্রতিপালনের অনুমতি দেয়া হত তার পিতাকে।

 

গ্রীসীয় স্পার্টা

 

আর শিশু যদি অসুস্থ বা দুর্বল বলে বিবেচিত হত তবে তাকে পাহাড়ের ওপর থেকে ফেলে দেয়া হত। সাত বছর থেকে স্পার্টান বালকদের শিক্ষাশিবিরে রেখে শিক্ষা দেয়া হত। শিক্ষা বলতে প্রধানত সামরিক প্রশিক্ষণ বোঝানো হত। অবশ্য সামান্য পরিমাণ পড়তে এবং লিখতেও শেখানো হত তাদের। শিক্ষার প্রধান লক্ষ্য ছিল স্পার্টানদের মধ্যে সাহস, উদ্যম, সহ্যশক্তি, কষ্টসহিষ্ণুতা প্রভৃতি সঞ্চার করে ভাল যোদ্ধারূপে তাদের গড়ে তোলা।

এ উদ্দেশ্যে তাদের খুব কম পরিমাণের ও সাধারণ ধরনের খাদ্য দেয়া হত, প্রচণ্ড শীতের মধ্যে তাদের খালি গায়ে, খালি পায়ে চলতে বাধ্য করা হত এবং নির্দয়ভাবে চাবুক মেরে তাদের শরীর শক্ত করা হত। কুড়ি থেকে ষাট বছর বয়স পর্যন্ত সব স্পার্টানদের সামরিক দায়িত্ব পালন করতে হত। এ বয়সের সব পুরুষদের সামরিক ছাউনিতে থাকতে হত। কুড়ি বছর বয়স হলে স্পার্টানদের বিয়ে করার অনুমতি দেয়া হত কিন্তু তাদের পারিবারিক জীবনযাপনের অধিকার ছিল না।

স্পার্টান মেয়েদেরও অনুরূপ সামরিক পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণ দেয়া হত। এ সকল অস্বাভাবিক নিয়মনীতির সাহায্যে স্পার্টা সারা গ্রীসের মধ্যে সবচেয়ে দক্ষ সৈন্যবাহিনী গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছিল। স্পার্টা দক্ষিণ গ্রীসের কোনো কোনো স্থান জয় করে নিয়েছিল, এবং অন্যান্য কতগুলি নগররাষ্ট্রের সাথে মিলে এক সামরিক জোট গঠন করেছিল। এ সামরিক জোটের নাম ছিল পেলোপনেসীয় লীগ এবং স্পার্টা ছিল তার নেতা।

সামরিক শক্তির সাহায্যে হেলটদের পদানত রেখে স্পার্টানরা পার্থিব সুখ ভোগ করতে সক্ষম হলেও তার জন্যে তাদের কঠোর মূল্য দিতে হয়েছিল। স্পার্টার সমস্ত শক্তি সামরিক প্রচেষ্টায় নিয়োজিত হবার ফলে তাদের শিল্প, বাণিজ্য এবং সংস্কৃতির বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। স্পার্টা নগর ছিল এক বিরাট সামরিক শিবিরের মতো ৷ কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ প্রতিটি স্পার্টান নাগরিককে নিষ্ঠুর যোদ্ধারূপে গড়ে তুলত।

 

গ্রীসীয় স্পার্টা

 

কিন্তু স্পার্টানরা যেমন হেলটদের ঘৃণা করত হেলটরাও তেমনি তাদের ঘৃণা করত। হাতে একটা বল্লম থাকতই। এ রকম ঘৃণা, শঙ্কা ও সন্ত্রাসের পরিবেশে বাস করার স্পার্টানরা তাই সারা জীবনে এক মুহূর্তের জন্যে অস্ত্র ছাড়া চলত না। সব সময় তাদের ফলেই স্পার্টা মানবিক ও সুকুমার বৃত্তির চর্চার সুযোগ বা অবকাশ কখনো পায়নি।

মাইলেটাস ও এথেন্সের সমসাময়িক একটি সমৃদ্ধ নগররাষ্ট্র হওয়া সত্ত্বেও, স্পার্টা বিশ্ব সংস্কৃতি বা মানবপ্রগতির ক্ষেত্রে বিন্দুমাত্র অবদান রাখতে পারেনি। স্পার্টার ইতিহাস থেকে যে শিক্ষা পওয়া যায় তা হল, অন্য জাতিকে শৃঙ্খলিত করলে প্রকারান্তরে নিজেদেরই শৃঙ্খলিত করা হয়।

 

আরও দেখুন :

Exit mobile version