আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় সক্রেটিস, প্লেটো এবং এ্যারিস্টটলের দর্শন
সক্রেটিস, প্লেটো এবং এ্যারিস্টটলের দর্শন
সক্রেটিস, প্লেটো এবং এ্যারিস্টটলের দর্শন
গ্রীসীয়-পারসিক যুদ্ধে সফল বিজয়ের মধ্যে দিয়ে এথেন্সের অভ্যুদয় ঘটে। গ্রীসীয়-পারসিক যুদ্ধ শেষ হয় ৪৭৯ খ্রিস্টপূর্বাব্দে। কিন্তু ঐ শতাব্দী শেষ হবার আগেই এথেন্সের সমৃদ্ধির যুগ অস্তমিত হয়। পেলোপনেশীয় যুদ্ধের ফলে সমগ্র গ্রীসের অর্থনীতিই ধ্বংস হয়ে যায়।
খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীর শেষে ও চতুর্থ শতাব্দীর শুরুতে গ্রীসের নগররাষ্ট্রগুলোর মধ্যে হানাহানি ও যুদ্ধ এক রকম নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছিল, সমাজে দাসের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছিল। এ সময়ে বেকার, কর্মহীন, জীবিকাহীন ভবঘুরে যুবকে সব গ্রীক নগররাষ্ট্রগুলো ছেয়ে যায় এবং সমাজের পক্ষে এরা বিপদস্বরূপ হয়ে দেখা দেয়। অর্থনৈতিক অবক্ষয় শুরু হবার সাথে সাথে গ্রীসে দার্শনিকচিন্তার প্রকৃতিও বস্তুবাদী স্তর থেকে মানস বা ভাববাদী স্তরে পর্যবসিত হয়।
এ যুগে অংশত মাইলেশীয় বস্তুবাদের বিরুদ্ধে এবং অংশত সফিস্টদের সংশয়বাদের বিরুদ্ধে নতুন দার্শনিক চিন্তার উদয় হয়। এ নতুন দর্শনের প্রবক্তা হলেন দর্শন চিন্তার ইতিহাসের তিনজন বিখ্যাততম ব্যক্তি— যথা, সক্রেটিস, প্লেটো এবং এ্যারিস্টটল। সক্রেটিসের জন্ম হয়েছিল এথেন্সে, ৪৬৯ খ্রিস্টপূর্বাব্দে। ৩৯৯ খ্রিস্টপূর্বাব্দে তরুণদের বিভ্রান্ত করার অভিযোগে তাঁকে বিষ প্রয়োগে হত্যা করা হয়।
অবশ্য, অভিজাতদের সঙ্গে এবং বিশেষত দেশদ্রোহী আলসিবিয়াডিস-এর সাথে ঘনিষ্ঠতাই সক্রেটিসের মৃত্যুর আসল কারণ। সক্রেটিস কিভাবে লেখপড়া শিখেছিলেন তা জানা যায় না, কিন্তু পূর্ববর্তী গ্রীক দার্শনিকদের প্রচারিত শিক্ষা সম্পর্কে তাঁর প্রভূত জ্ঞান ছিল এবং তাঁর চারপাশে একদল অনুসারীকে আকৃষ্ট করতেও তিনি সমর্থ হয়েছিলেন।
সক্রেটিস সাধারণভাবে একজন নৈতিক দার্শনিক হিসেবেই পরিচিত, তবে এরূপ মনে করার কারণ আছে যে ভাবচেতন সম্পর্কে প্লেটোর তত্ত্ব মূলত সক্রেটিসের উদ্ভাবিত। সে কথা সত্য হোক আর না-ই হোক, এটা ঠিক যে, সক্রেটিস সত্য জ্ঞানলাভের একটি পন্থায় বিশ্বাস করতেন, যে পন্থা তাঁর নিজেরই উদ্ভাবিত।
সক্রেটিস মনে করতেন যে, বিভিন্ন মত পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ করে খাঁটি সত্যকে উদ্ঘাটন করা সম্ভব।
আরও দেখুন :

