আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় গ্রীসীয় আলেকজান্ডারের সাম্রাজ্য। ত্রিশ বছর বয়সের মধ্যে তিনি মিশর থেকে উত্তর পশ্চিম ভারত পর্যন্ত প্রাচীন বিশ্বের বৃহত্তম সাম্রাজ্যগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি প্রতিষ্ঠা করেন। তার লড়া সবগুলো লড়াইয়ে তিনি অপরাজিত ছিলেন এবং তাকে ইতিহাসের অন্যতম সেরা ও সফল সেনানায়ক বিবেচনা করা হয়।
গ্রীসীয় আলেকজান্ডারের সাম্রাজ্য

গ্রীসীয় আলেকজান্ডারের সাম্রাজ্য
খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে উত্তর গ্রীসের ম্যাসিডন রাজ্য ক্রমশ ক্ষমতাশালী হয়ে উঠেছিল। ম্যাসিডন-রাজ ফিলিপ অতি অল্পকালের মধ্যেই সমগ্র গ্রীকজগতের ওপর আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন এবং তাঁর পুত্র মহাবীর আলেকজাণ্ডার মাত্র ১০ বছরের মধ্যে বিশাল পারস্য সাম্রাজ্য ও অন্যান্য অনেক দেশ জয় করেন। বস্তুত আলেকজাণ্ডার সিন্ধুনদ থেকে নীলনদ পর্যন্ত বিস্তৃত সমগ্র ভূভাগ জয় করেন।
এর পর গ্রীকসভ্যতা ও সংস্কৃতির এক নতুন যুগের সূচনা হয়। নতুন যুগে গ্রীক ও প্রাচ্য সংস্কৃতির সমন্বয়ের মাধ্যমে এক নতুন সংস্কৃতির উদয় হয়েছিল। এ সংস্কৃতির নাম হয়েছে হেলেনিস্টিক বা আলেকজান্দ্রিয়-সংস্কৃতি। মিশরের আলেকজান্দ্রিয়া নগরী ছিল এযুগের সভ্যতা সংস্কৃতির মূল কেন্দ্র।
মনে রাখা যেতে পারে যে, প্রাক আলেকজান্দ্রীয় যুগের বিশুদ্ধ গ্রীক সংস্কৃতির নাম দেয়া হয়েছে ‘হেলেনিক সংস্কৃতি’শ গ্রীসের মূল ভূখণ্ডে অবস্থিত হলেও ম্যাসিডোনিয়ার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কাঠামো অন্যান্য গ্রীক নগরের চেয়ে পৃথক ছিল। এ দেশটা ছিল সমুদ্র থেকে বিচ্ছিন্ন, তাই সামুদ্রিক বাণিজ্যের সুযোগ তার বিশেষ ছিল না। ফলে গ্রীসের অন্যান্য অংশের তুলনায় ম্যাসিডোনিয়া ছিল অনেক পশ্চাৎপদ। এটা ছিল এক অধিবাসীরা ছিল প্রধানত কৃষক ও পশুপালক।
এথেন্স যখন বিকাশের উচ্চতম শিখরে আরোহণ করেছিল, ম্যাসিডোনিয়া তখনো হোমারীয় সভ্যতার পর্যায়ে পড়ে ছিল। পেলোপনেসীয় যুদ্ধের পর থেকে ম্যাসিডোনিয়া গ্রীক সভ্যতা ও সংস্কৃতি আত্মস্থ করতে শুরু করে। রাজা ফিলিপ (৩৫৯-৩৩০ খ্রিঃ পূঃ) ম্যাসিডোনিয়ায় এক বিশাল সেনাবাহিনী গড়ে তোলেন। ফিলিপ যে নতুন ধরনের সৈন্যব্যূহ গঠন করতেন তা “ম্যাসিডোনিয়ার ফ্যালাংস” (Macedonian Phalanx) নামে প্রসিদ্ধ হয়েছে।
ফিলিপ যুদ্ধবিদ্যা শিখেছিলেন থিস্-এর এপামিনোনডাসের কাছে। ম্যাসিডোনিয়ার ফ্যালাংস-এ ১৬ থেকে ২০ সারি সৈন্য থাকত এবং তাদের হাতের বল্লম ছিল ১৫ ফুট পর্যন্ত লম্বা। পেছনের সারির সৈন্যরা সামনের সারির সৈন্যদের কাঁধে বল্লম রাখত। সৈন্যরা বিশাল ঢাল দিয়ে নিজেদের আবৃত রাখত। ব্যূহের দু’পাশে থাকত সুশিক্ষিত অশ্বারোহী বাহিনী। শত্রুর দুর্গ অবরোধ এবং জয় করার উপযুক্ত যন্ত্র এবং অস্ত্রপাতি ম্যাসিডোনীয় বাহিনীর ছিল।

নতুন যুদ্ধসরঞ্জাম ও রণকৌশলের সাহায্যে রাজা ফিলিপ অতি অল্পকালের মধ্যেই সমগ্র উত্তর গ্রীস অধিকার করে নেন। ঈজিয়ান উপকূল এবং কৃষ্ণসাগর পর্যন্ত তাঁর সাম্রাজ্য বিস্তৃত হয়। এর ফলে ম্যাসিডোনিয়া একটি নৌশক্তিতে পরিণত হয় এবং গ্রীস থেকে কৃষ্ণসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত জলপথ সমূহ নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়। ম্যাসিডন এরপর সমগ্র গ্রীসের কর্তৃত্ব অর্জনের জন্যে সচেষ্ট হল।
ম্যাসিডন-শক্তির সম্প্রসারণে বাধা দেবার ক্ষমতা একমাত্র এথেন্সেরই ছিল। এথেন্সের বাণিজ্যিক স্বার্থও ক্ষুণ্ণ হয়েছিল ম্যাসিডেনের শক্তির বিকাশের ফলে। কিন্তু এথেন্স এ সময়ে দুটো দলে বিভক্ত হয়ে পড়ে। একদল ছিল ফিলিপের সাথে মৈত্রী স্থাপনের পক্ষে, অপর দল ছিল ফিলিপের অধীনতা স্বীকার করার বিরুদ্ধে। সুবিখ্যাত বাগ্মী ডেমোস্থেনিস-এর বিরামহীন প্রচেষ্টার ফলে এথেনীয় জনগণ শেষ পর্যন্ত ফিলিপের বিরুদ্ধাচারণ করাই স্থির করে।
এথেন্স এবং থিবস্ ফিলিপের বিরুদ্ধে জোট গঠন করে। স্পার্টা ও অন্যান্য পেলোপনেসীয় রাষ্ট্র এ বিবাদে নিষ্ক্রিয় থাকে। অবশেষে ৩৩৮ খ্রিস্টপূর্বাব্দে ম্যাসিডোনিয়া ও এথেন্সের মধ্যে এক যুদ্ধে বিবাদের পরিসমাপ্তি ঘটে। যুদ্ধে ম্যাসিডোনীয় বাহিনীর হাতে গ্রীক বাহিনী সম্পূর্ণভাবে পরাজিত হয়। ম্যাসিডোনীয় বাহিনীর এক অংশের সেনাপতি ছিলেন ফিলিপের ছেলে আলেকজাণ্ডার, তাঁর বয়স তখন মাত্র ১৮ বছর।
যুদ্ধে জয়লাভের পর সম্রাট ফিলিপ করিন্থ নগরীতে গ্রীক নগরসমূহের এক মহাসম্মেলন আহ্বান করেন। এ সম্মেলনে গ্রীক রাষ্ট্রসমূহের এক জোট গঠন করা হয় এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রের মধ্যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ নিষিদ্ধ করা হয়। ম্যাসিডোনিয়ার নেতৃত্বে পারস্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করারও সিদ্ধান্ত নেয় গ্রীক নগরসমূহ। সম্রাট ফিলিপ পারস্য সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। ৩৩৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দে তাঁর সেনাবাহিনী এশিয়া মাইনরে প্রবেশ করলে পারস্যের সাথে যুদ্ধ শুরু হয়।

কিন্তু ঠিক এ সময়ে ফিলিপ গুপ্তঘাতকের হাতে নিহত হন। এর ফলে তাঁর পুত্র আলেকজাণ্ডার মাত্র ২০ বছর বয়সে ম্যাসিডনের তথা গ্রীক সাম্রাজ্যের সিংহাসনে আরোহণ করেন। এ বয়সেই অবশ্য আলেকজাণ্ডার অত্যন্ত রণনিপুণ সেনাপতিতে পরিণত হয়েছিলেন। ছোটকাল থেকেই তিনি পিতার সাথে সব যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতেন। আলেকজাণ্ডার উচ্চশিক্ষা ও সংস্কৃতির অধিকারী ছিলেন। বিশ্ববিখ্যাত দার্শনিক ও পণ্ডিত এ্যারিস্টটল ছিলেন তাঁর শিক্ষক।
তবে সব দিক দিয়ে প্রতিভাবান এবং সাহসী ও কর্মঠ হওয়া সত্ত্বেও আলেকজাণ্ডার ছিলেন রাগী স্বভাবের ও নিষ্ঠুর প্রকৃতির।
ফিলিপের মৃত্যুর সংবাদ প্রচারিত হওয়ামাত্র বিভিন্ন গ্রীক নগররাষ্ট্রে বিদ্রোহের মনোভাব প্রকাশ পায়। এথেন্সেও বিক্ষোভ দেখা দেয় এবং থিবস্ বিদ্রোহ করে বসে। তরুণ আলেকজাণ্ডার কঠোর হাতে এসব বিদ্রোহ দমন করেন। থিবস্ নগরকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে তিনি তার অধিবাসীদের দাসরূপে বিক্রি করে দেন।
৩৩৪ খ্রিস্টপূর্বাব্দে আলেকজাণ্ডার এশিয়ায় তাঁর অভিযান শুরু করেন। আলেকজাণ্ডারের সেনাবাহিনী খুব বিশাল ছিল না, এতে ছিল প্রায় ৩০ হাজার পদাতিক সৈন্য, ৫ হাজার অশ্বারোহী এবং প্রয় ১৫০টি যুদ্ধজাহাজ। আলেকজাণ্ডারের সেনাবহিনী হেলেস্পন্ট অতিক্রম করে এশিয়া মাইনরে প্রবেশ করলে পারসিক বাহিনীর সাথে প্রথম সংঘর্ষ ঘটে। এ যুদ্ধে পারসিক বাহিনীকে পরাস্ত করে আলেকজাণ্ডার উপকুল ধরে দক্ষিণে অগ্রসর হন এবং গ্রীক নগরসমূহকে পারসিক আধিপত্য থেকে মুক্ত করেন।

অতঃপর ৩৩৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে এশিয়া মাইনরের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত ইসাস্ নগরের কাছে আলেকজাণ্ডার পারস্য সম্রাট ৩য় দারিয়ুসের মূল সৈন্যবাহিনীর সম্মুখীন হন। পারসিক বাহিনী ছিল সংখ্যায় গ্রীক বাহিনীর চেয়ে বহুগুণ বেশি। আলেকজাণ্ডার তাঁর পদাতিক ও অশ্বারোহী বাহিনীর বাম অংশকে অনেক দূর এগিয়ে যেতে দেন। এ অংশটি পারসিক বাহিনীকে পাশ কাটিয়ে গিয়ে তাকে পেছন দিক থেকে আক্রমণ করে। এর ফলে পারসিক বহিনী ঘেরাও হয়ে পরে পর্যুদস্ত হয়।
দারিয়ুস কোনোক্রমে পলায়ন করেন। এভাবে নতুন ও বলিষ্ঠ রণকৌশলের সাহায্যে আলেকজাণ্ডার জয়লাভ করেন। এরপর আলেকজাণ্ডার ফিনিশীয় উপকূল ধরে অগ্রসর হন এবং বিভিন্ন নগর ও রাষ্ট্রকে পদানত করেন। যেসব নগররাষ্ট্র প্রতিরোধের চেষ্টা করে আলেকজাণ্ডার তাদের নগরীকে ধ্বংস করে সমস্ত লোকদের দাসে পরিণত করেন।
যেমন, টায়ার নগরীকে অধিকার করার পর আলেকজাণ্ডর ৮ হাজার লোককে হত্যা করেন এবং ৩০ হাজার লোককে দাস হিসেবে বিক্রি করে দেন। অবশ্য অধিকাংশ নগরই পারসিক আধিপত্য থেকে মুক্তিলাভের জন্যে ব্যস্ত ছিল, এরা স্বেচ্ছায় আলেকজাণ্ডারের অধীনতা স্বীকার করে নেয়। এরপর আলেকজাণ্ডার বিনাযুদ্ধে মিশর জয় করে নেন এবং নিজেকে পারসিক আধিপত্য থেকে মিশরের মুক্তিদাতা রূপে ঘোষণা করেন।
মিশরের পুরোহিতরাও আলেকজাণ্ডারকে দেবতা আমন-এর পুত্র এবং ফারাওদের উত্তরাধিকারীরূপে ঘোষণা করেন। মিসর থেকে আলেকজাণ্ডার ৩৩১ খ্রিস্টপূর্বাব্দে আবার এশিয়ায় ফিরে আসেন। এবার দারিয়ুসের সাথে তাঁর শেষ বড় যুদ্ধ হয়। নিনেভে নগরীর কাছে এক প্রান্তরে উভয় পক্ষ মুখোমুখি হয়। এ যুদ্ধেও আলেকজাণ্ডার উন্নত রণকৌশলের দরুন জয়লাভ করেন। দারিয়ুস প্রথমে অশ্বরথ বাহিনীকে আলেকজাণ্ডারের বিরুদ্ধে চালনা করেন।

কিন্তু আলেকজাণ্ডারের তীরন্দাজ বাহিনী রথচালকদের অনেককেই তীর মেরে নিহত করে। এ ছাড়া আলেকজাণ্ডারের সেনারা দু’পাশে সরে গিয়ে রথসমূহকে পথ ছেড়ে দেয় এবং রথগুলো আলেকজাণ্ডারের বাহিনীর কোনো ক্ষতি না করতে পেরে সোজা বেরিয়ে চলে যায়। এর পর আলেকজাণ্ডার অশ্বারোহী বাহিনী নিয়ে দারিয়ুসের মূল শিবির আক্রমণ করেন। দারিয়ুস আতঙ্কিত হয়ে পলায়ন করেন, তাঁর সেনাবাহিনী তাঁকে অনুসরণ করে।
দারিয়ুসের পশ্চাদ্ধাবন করে আলেকজাণ্ডার পারস্যের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন এবং একে একে পারস্যের চারটি রাজধানীর মধ্যে তিনটিকেই অধিকার করেন। এ তিনটি রাজধানী হলঃ ব্যবিলন, সুসা ও পার্সিপোলিস। এ তিনটি নগরীতে আলেকজাণ্ডার প্রভৃত ধনসম্পত্তি লাভ করেন। ব্যবিলনে আলেকজাণ্ডার নিজেকে পারস্যের সম্রাটরূপে ঘোষণা করেন। দারিয়ুস পলায়নরত অবস্থায় তাঁরই নিজের সেনাপতিদের হাতে নিহত হন।
আলেকজাণ্ডার প্রথমে দারিয়ুস ও পরে তাঁর অধীনস্থ শাসকদের অনুসরণ করে মধ্য এশিয়ায় (বর্তমান উজবেকিস্তান ও তাজিকিস্তানে) প্রবেশ করেন। এখানকার স্থানীয় দুর্ধর্ষ অধিবাসীদের পরাস্ত করতে আলেকজাণ্ডারকে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়। তিন বছর প্রচণ্ড লড়াই করে শত সহস্র অধিবাসীদের হত্যা করে আলেকজাণ্ডার এখানে এক ক্ষুদ্র ভূখণ্ডে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন। এরপর আলেকজাণ্ডার ভারতবর্ষের ধনসম্পদের কাহিনীতে আকৃষ্ট হয়ে ভারতবর্ষ আক্রমণ করেন।
খাইবার গিরিপথ দিয়ে আলেকজাণ্ডার ভারতীয় উপমহাদেশে প্রবেশ করেন। এখানে এক প্রাচীন ভারতীয় রাজা পুরুকে পরাজিত করে আলেকজাণ্ডার উত্তর-পশ্চিম ভারতবর্ষে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন। কিন্তু এ কাজ সহজে সাধিত হয়নি। সীমান্ত অঞ্চলের ভারতীয় অধিবাসীরা আলেকজাণ্ডারকে তীব্র বাধা প্রদান করেছিল। বিশেষত সীমান্তের উপজাতিদের প্রতিরোধের ফলে ভারতবর্ষে আলেকজাণ্ডারের প্রবেশ দীর্ঘকাল বিলম্বিত হয়েছিল। আলেকজাণ্ডারের স্বপ্ন ছিল বিশ্বজয়ের।
কিন্তু তাঁর সৈন্যরা ভারতীয় উপসমহাদেশের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলে পৌঁছার পর আর অগ্রসর হতে অস্বীকার করে। উত্তর ভারতে তখন পরাক্রমশালী সম্রাট মহাপদ্ম নন্দ মগধের সিংহাসনে আসীন। এঁর পরাক্রমের কাহিনী আলেকজাণ্ডারের সৈন্যরা শুনেছিল, আর ভারতীয়দের বিক্রম তারা সীমান্ত অঞ্চলে স্বচক্ষেই দেখেছিল। অনেক চেষ্টা করেও আলেকজাণ্ডার তাঁর সৈন্যদের যুদ্ধে প্রবৃত্ত করতে পারলেন না।

বাধ্য হয়ে ৩২৫ খ্রিস্টপূর্বাব্দে তিনি তাঁর বাহিনী নিয়ে গ্রীসের অভিমুখে ফিরে চললেন। কিন্তু গ্রীসে না ফিরে তিনি পথিমধ্যে ব্যবিলনেই তাঁর বিশাল সাম্রাজ্যের রাজধানী স্থাপন করলেন। তাঁর সাম্রাজ্য এ সময় গ্রীসের মূল ভূখণ্ড থেকে সিন্ধুনদ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। ব্যবিলনে বসে আলেকজাণ্ডার ভূমধ্যসাগরের পশ্চিম অংশ জয়ের পরিকল্পনা করতে শুরু করেন। কিন্তু ৩২৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মাত্র ৩২ বছর বয়সে অকস্মাৎ রোগাক্রান্ত হয়ে মারা যাবার ফলে আলেকজাণ্ডারের বিশ্বজয়ের সাধ অপূর্ণই রয়ে যায়।
আরও দেখুন :
