আজকের আলোচনার বিষয় আর্থসামাজিক অবস্থান – যা রাখাইন জনগোষ্ঠী এর অর্ন্তভুক্ত, রাখাইনদের অধিকাংশই অর্থনৈতিকভাবে কৃষির উপর নির্ভরশীল, বিশেষ করে পটুয়াখালী-বরগুনা অঞ্চলে। কৃষি-নির্ভর রাখাইনদের অনেকেরই বিগত দশকগুলোতে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় ভূমি হাতছাড়া হয়েছে, ফলে তাদের অর্থনৈতিক ভিত্তি ভঙ্গুর হয়ে গেছে।
ভূমি হারানোর পাশাপাশি তাদের সাংস্কৃতিক পার্থক্যের কারণে, সংখ্যাল্পতার কারণে, বিভিন্ন সময়ে তারা বৈষম্য ও হয়রানির শিকার হয়েছে। প্রতিবেশী বাঙালীদের অনেকে এখনো তাদের ‘মগ’ হিসাবে হেয় করে থাকে। এভাবে বৈরী একটি পরিমন্ডলেই অন্যান্য ক্ষুদ্র জাতিসত্তাদের মত রাখাইনরাও এদেশে বসবাস করছে।
আর্থসামাজিক অবস্থান

অবশ্য এমন নয় যে প্রতিকুলতার মুখে তারা সবাই হতাশ ও নিস্ক্রিয় হয়ে বসে রয়েছে। বরং নিজেদের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরার জন্য, এবং সেগুলোর সমাধান খোঁজার লক্ষ্যে, তারা সংগঠন গড়ে তুলেছে। রাখাইনদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ব্যবসা-বাণিজ্যের সাথে সম্পৃক্ত। কক্সবাজার শহরে রাখাইনদের পরিচালিত দোকান পাট চোখে পড়ে।

অন্যত্রও, যেমন বান্দরবান শহরে, রাখাইনদের দোকান রয়েছে। তাদের অনেকে পাহাড়ীদের মধ্যে জনপ্রিয় ‘নাপ্পি’ নামে পরিচিত একধরনের শুটকি-মন্ড উৎপাদন ও বিপণনের সাথেও জড়িত। এছাড়া ঐতিহ্যগতভাবে রাখাইনদের প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই নারীদের পরিচালিত তাঁত ছিল, যা দিয়ে পরিবারের বজ্রচাহিদা মেটানো হত। সূতার দাম বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন কারণে এই শিল্প বর্তমানে হুমকির মুখে, তবে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হলে এর বিকাশ ও প্রসার সম্ভব বলে মনে করা হয় ।
বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী রাখাইনদের জীবনে বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও প্রতিষ্ঠানের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। প্রথাগতভাবে রাখাইনদের অধিকাংশই নিজেদের ভাষায় লিখতে পড়তে পারত, এবং এখনো পারে, যার পেছনে তাদের ‘কিয়ং” বা বৌদ্ধ-বিহার ভিত্তিক শিক্ষা-ব্যবস্থার ভূমিকা রয়েছে। তবে রাখাইনদের অনেকে জাতীয় শিক্ষাকার্যক্রমের আওতা-বহির্ভূত রয়ে গেছে। বিশেষ করে উচ্চশিক্ষাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম, তবে অল্পসংখ্যক যাঁরা রয়েছেন তাঁদের কেউ কেউ উচ্চ পদে চাকুরিতে নিয়োজিত রয়েছেন।

যেসব রাখাইনরা এদেশে রয়ে গেছে, সাংস্কৃতিকভাবে তারা নিজেদের উৎসভূমি হিসাবে আরাকান বা মায়ানমারকে চিহ্নিত করলেও এদেশের নাগরিক হিসাবে পূর্ণ মর্যাদা নিয়ে বসবাস করার জন্মগত অধিকার তাদের অবশ্যই রয়েছে, এবং এটা প্রত্যাশিত যে ‘স্বদেশে পরবাসী’ হিসাবে যেন তাদের জীবন কাটাতে না হয়, রাষ্ট্রীয়ভাবে তার সুব্যবস্থা করা হবে।
আরও দেখুনঃ
